নেপালের প্রলয়ংকরী হড়পা বান: কার্বন নির্গমনে নামমাত্র অবদান রাখা হিমালয়ের দেশটিতে কেন এই মহাবিনাশ?

হিমালয়ের কোলে নেমে আসা ভয়াবহ বিপর্যয়ের ক্ষত শুকানোর আগেই দানা বাঁধছে নতুন প্রশ্ন। গত ২৬ অগস্টের আকস্মিক হড়পা বানে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চল যেভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তার ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। ভোতেকোশী এবং ত্রিশুলী নদীতে হঠাৎ পলিমাটি মিশ্রিত জলের স্রোত গিলে খেয়েছে আস্ত জনপদ। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) তথ্য অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে এবং প্রায় চার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু বিদেশি পর্যটকও এই সর্বনাশের মুখে পড়েছেন। নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে অগণিত বাড়ি, হোটেল, রিসর্ট এবং একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে নেপাল।

Mongabay+ 4

কিন্তু কেন ঘটল এই ভয়াবহ বিপর্যয়? ঘটনার ১০ দিন কেটে গেলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি [cite: তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের স্পষ্ট আঙুল জলবায়ু পরিবর্তনের দিকে। বিশেষ করে থুলাগি, লোয়ার বরুণ, লুমডিং শোর এবং হঙ্গু টু—এই চারটি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হ্রদকে নিয়ে মারাত্মক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

নেপালের প্রায় তিন কোটি মানুষ মূলত গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন [cite: গ্রিনহাউস গ্যাস উৎপাদনে এই দেশটির ভূমিকা নামমাত্র। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নে নেপালের অবদান মাত্র শূন্য দশমিক এক শতাংশ এবং দেশটি বছরে প্রতি ব্যক্তিতে মাত্র শূন্য দশমিক পাঁচ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে। ফলে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ক্ষেত্রে নেপালকে কার্যত দর্শক হিসেবেই ধরা হয়। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটির ওপর দিয়েই জলবায়ু পরিবর্তনের মার সবচেয়ে বেশি আসে। হিমবাহের গলন বা আকস্মিক হ্রদ বিস্ফোরণের মতো চরম বিপদের ঝুঁকি তাই নেপালের ঘাড়েই সবচেয়ে বেশি চাপে। গ্রিনহাউস গ্যাসের সরাসরি বড় উৎসমুখ না হয়েও কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন বা ক্লোরোফ্লুরোকার্বনের প্রভাবে তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণতা এই হিমালয়ান রাষ্ট্রটিকে কতটা বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে, এখন সেটাই খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

Mongabay+ 1

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *