বাঁধ না ভাঙলেও একাধিক জেলা জলের তলায়! পরিস্থিতি সামাল দিতে ডব্লুবি সরকারের মাস্টারপ্ল্যান কী?

প্রবল বর্ষণে বর্তমানে বাংলার একাধিক জেলা জলবন্দি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন দামোদর উপত্যকার বহু এলাকায় জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এই জরুরি পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে শুক্রবার জলসম্পদ ভবনে দীর্ঘ এক ঘণ্টা জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমস্ত জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরাও।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, দুর্গত মানুষের সুরক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ এবং শেল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘কন্ট্রোল রুম খোলা আছে, আমরা রিভিউ করলাম। মালদার মানিকচকে ১৯টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষের যাতে সমস্যা না হয়, তার সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শেলটার ও খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

পাশাপাশি হাওড়ার আমতা, হুগলির খানাকুল এবং উদয়নারায়ণপুর এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মুহূর্তে খানাকুল ও উদয়নারায়ণপুরের জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি রয়েছে, তবে স্বস্তির বিষয় হলো জল ছাড়ার পরিমাণ কিছুটা কমেছে। জলমগ্ন এলাকায় সাপের উপদ্রবসহ অন্যান্য সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতেও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজ্যের বন্যা মোকাবিলা প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিভিসির (DVC) ভূমিকারও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ডিভিসির সঠিক পদক্ষেপে কোনো বাঁধ ভাঙেনি, যা বড় বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছে। তবে আসন্ন সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ফের নতুন কোনো প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এবং দুর্গত মানুষদের সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *