Bollywood Secrets: কেরিয়ারের চরম ব্যর্থতা সহ্য করতে না পেরে হাত কাঁপত ঋষি কাপুরের! আত্মজীবনীতে উঠে এল বিস্ফোরক সত্য

বলিউডের রোমান্টিক হিরো হিসেবে ঋষি কাপুরের জনপ্রিয়তা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে তাঁর বর্ণময় ক্যারিয়ারে এমন কিছু অন্ধকার অধ্যায়ও ছিল, যা শুনলে চমকে যেতে হয়। ১৯৮০ সালের ব্লকবাস্টার হওয়ার কথা থাকলেও ‘করজ’ ছবিটি বক্স অফিসে বড় ধাক্কা খেয়েছিল। পরিচালক সুভাষ ঘাই পরিচালিত এবং পুনর্জন্মের থিমে তৈরি এই ছবির ব্যর্থতা সেই সময় তরুণ ঋষিকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছিল।
ব্যর্থতার জেরে মানসিক অবসাদ ও মদের নেশা
অমিতাভ বচ্চনের ‘অ্যাংরি ইয়ং ম্যান’ যুগের ঠিক মাঝে নিজেকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে ধরে রাখতে গিয়ে প্রবল মানসিক চাপের মুখে পড়েছিলেন ঋষি। নিজের আত্মজীবনী ‘খুল্লাম খুল্লা’য় তিনি নিজেই লিখেছেন, ছবির ব্যর্থতার পর তাঁর অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তাঁর কাছে দুঃস্বপ্নের মতো মনে হতো। শুটিং সেটে হাত কেঁপে উঠত তাঁর। এই তীব্র মানসিক অবসাদ কাটাতে তিনি মদের নেশায় বুঁদ হয়ে পড়েন এবং নিজের কেরিয়ার নিয়ে প্রবল সংশয়ে ভুগতেন।
স্ত্রীর ওপর দোষ চাপানো ও বৈবাহিক অশান্তি
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ঋষি তাঁর সদ্য বিবাহিত স্ত্রী নিতু কাপুরের ওপর এই ব্যর্থতার সমস্ত দায় চাপাতে শুরু করেন। দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই এই মানসিক টানাপোড়েনের জেরে নিতুর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। পরবর্তীতে অবশ্য তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিলেন।
জীবনের সেই কঠিন সময়ে ঋষিকে সামলাতে তাঁর বাবা রাজ কাপুর তাঁকে লোনির খামারবাড়িতে নিয়ে যান, যাতে সমস্ত মানসিক চাপ থেকে তিনি দূরে থাকতে পারেন। পরবর্তীকালে সময়ের হাত ধরে ‘করজ’ একটি কাল্ট ক্লাসিক এবং ভারতীয় সিনেমার অন্যতম সেরা মাস্টারপিস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। প্রয়াত অভিনেতার জন্মদিনে তাঁর জীবনের সেই অজানা ও কঠিন অধ্যায় ফের একবার ঝড় তুলেছে নেটপাড়ায়।