“তুমি কি আমায় মরতে সাহায্য করতে পারো?” বাবার শেষ দিনের মর্মান্তিক লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন রাম কাপুর

বাবাকে হারানোর শূন্যতা চিরকালের, কিন্তু সেই বিদায় যদি হয় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও চরম কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে, তবে তা সন্তানের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বাবা অনিল ‘বিলি’ কাপুর-এর সঙ্গে ক্যানসার যুদ্ধ এবং তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে এমনই কিছু হৃদয়বিদারক তথ্য শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাম কাপুর। বাবার সেই শেষ লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা।

ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই ও করোনার ধাক্কা
এক খোলামেলা কথোপকথনে রাম জানিয়েছেন তাঁর বাবার জীবনের শেষ দিকের কঠিন লড়াইয়ের কথা। পেশায় ব্যবসায়ী অনিল কাপুরের বয়স যখন ৬৩ বছর, তখন তাঁর শরীরে মারণ রোগ প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সেই ক্যানসার তখন আর অস্ত্রোপচারের মতো জায়গায় নেই। কিন্তু হার না মেনে অনিল বাবু ১৮ রাউন্ড কেমোথেরাপি করান এবং সুস্থ হয়ে প্রায় এক দশক স্বাভাবিক জীবনও কাটান। এরপর ৭৩ বছর বয়সে করোনা মহামারীর সময় সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন তাঁর শরীরে ফের থাবা বসায় ক্যানসার। তবে সেবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা ছিল এবং চিকিৎসার সমস্ত রাস্তাও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আইসিইউ-র সেই স্তব্ধ করে দেওয়া ফোন কল
ঠিক সেই কঠিন মুহূর্তে রামের কাছে একটি ফোন আসে, যা তাঁকে একেবারে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। রাম জানান, তাঁর বাবা তাঁকে অনুরোধ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “তুমি কি আমায় মরতে সাহায্য করতে পারো?” স্বাভাবিকভাবেই প্রথমটায় রামের প্রতিক্রিয়া যা হওয়ার তাই হয়েছিল। কিন্তু অনিল কাপুর এমনভাবে বুঝিয়েছিলেন যে, রাম যদি তাঁর পাশে না দাঁড়ান, তবে তাঁকে একাই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হবে।

আইসিইউ-তে কাটানো সেই দিনগুলির কথা স্মরণ করে অভিনেতা বলেন, “কেউ জানত না যে তখন আর কোনও চিকিৎসা চলছে না। তিনি শুধু চেয়েছিলেন আমি যেন তাঁর হাত ধরে থাকি এবং চলে যেতে সাহায্য করি। তিনি একা থাকতে ভয় পেতেন, কিন্তু মৃত্যুকে ভয় পেতেন না।”

বদলে গেল জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি
প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের জেরে একদিকে যেমন চরম শারীরিক কষ্ট হচ্ছিল, অন্যদিকে তেমনই হ্যালুসিনেশন সহ নানা মানসিক ধকলও সহ্য করতে হচ্ছিল তাঁকে। যখন চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং কোনো চিকিৎসা আর কাজ করছিল না, তখন চোখের সামনে বাবার এই তিল তিল করে নিঃশেষ হওয়া দেখা ছাড়া রামের আর কোনও উপায় ছিল না। বাবার এই মৃত্যুকে এত কাছ থেকে দেখার পর জীবন সম্পর্কে রামের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *