রামায়ণের প্রেক্ষাপটে মহালয়া সাজাতেই চরম অসন্তুষ্ট দর্শকরা! জি বাংলার প্রোমো নিয়ে কেন এত সমালোচনা?

আসন্ন দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই টেলিভিশন মহলে শুরু হয়ে গেছে মহালয়ার মেগা প্রস্তুতি। স্টার জলসায় দেবী দুর্গা হিসেবে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম আগেই প্রকাশ্যে এলেও, জি বাংলার মহালয়া নিয়ে দর্শকদের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ছিল। অবশেষে প্রকাশ্যে এল জি বাংলার মহালয়া অনুষ্ঠান ‘অশুভনাশিনী ত্রিনয়নী’-র আনুষ্ঠানিক প্রোমো। তবে প্রোমো প্রকাশ্যে আসতেই একদিকে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে তা দর্শকদের একাংশের তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছে।

জি বাংলার এই মহালয়া প্রোমো অনুযায়ী, এবারে রামায়ণের প্রেক্ষাপটে মহালয়ার কাহিনি সাজানো হয়েছে। যেখানে দেবী দুর্গা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন ‘জগদ্ধাত্রী’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিক এবং রামের চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা অভিষেক বসুকে। প্রোমোতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে দেবী দুর্গার ভক্ত শ্রী রাম, আর ভদ্রকালীর আরাধনা করছেন রাবণ। পরবর্তীতে শক্তির দেবীর আশীর্বাদে রাম কর্তৃক রাবণ বধের দৃশ্যই তুলে ধরা হয়েছে।

তবে রামায়ণের আদলে মহালয়ার এই উপস্থাপনা এবং প্রোমো তৈরির ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার একেবারেই ভালো মনে গ্রহণ করেননি দর্শকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। প্রোমো দেখে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, এটি দেখে নবরাত্রির আমেজ বেশি পাওয়া যাচ্ছে। অন্য একজন তো আবার কটাক্ষ করে লিখেছেন, চ্যানেলটি যেন পুরোপুরি অন্য রূপ ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি, পোশাক নির্বাচন থেকে শুরু করে এআই ব্যবহারের ত্রুটি নিয়েও ট্রোলের ঝড় বইছে। একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, প্রোমোতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এবং সামগ্রিক বিন্যাস দেখে মনে হচ্ছে এর নাম রাখা উচিত ছিল ‘এআই ত্রিনয়নী’।

অন্যদিকে, স্টার জলসা তাদের মহালয়ার নাম রেখেছে ‘রূপে রূপান্তরে মহিষাসুরমর্দিনী’। সেখানে দেবী দুর্গার রূপের পাশাপাশি মহাদেব শিবের চরিত্রে রণজয় বিষ্ণু এবং চ্যানেলের অন্যান্য জনপ্রিয় নায়িকাদের বিভিন্ন রূপে দেখা যাবে। প্রতিবারের মতো এবারও দুই প্রধান চ্যানেলের এই মহিষাসুরমর্দিনীর লড়াই যে বেশ জমজমাট হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। চলতি বছরে আগামী ১০ অক্টোবর, শনিবার মহালয়া পড়েছে। অর্থাৎ দেবী পক্ষের সূচনা হতে আর মাত্র ১ মাস ৯ দিন বাকি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *