গোপন ব্রাউজিংয়ের সবচেয়ে বড় মিথ! আপনি যা ভাবছেন, ইন্টারনেটের দুনিয়ায় আদতে কি তাই ঘটে?

অনলাইনে ব্যক্তিগত কিছু খোঁজা বা এমন কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার সময় যাতে ব্রাউজারের ইতিহাসে তার কোনো তথ্য জমা না থাকে, সেজন্য অনেকেই চোখ বন্ধ করে ভরসা করেন ‘ইনকগনিটো মোড’-এর (Incognito Mode) ওপর। গুগল ক্রোমের এই বিশেষ ফিচারটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটি গভীর ধারণা রয়েছে যে, ইনকগনিটো চালু করলেই বুঝি ইন্টারনেটে নিজের সমস্ত ডিজিটাল পরিচয় বা কার্যক্রম সম্পূর্ণ অদৃশ্য ও সুরক্ষিত হয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে কি তাই ঘটে?

প্রকৃতপক্ষে, ইনকগনিটো মোড আপনাকে ইন্টারনেটে সম্পূর্ণ অদৃশ্য বা বেনামী করে তোলে না। এর মূল এবং একমাত্র কাজ হলো আপনার নিজস্ব ডিভাইসে ব্রাউজিংয়ের কিছু তথ্য সংরক্ষণ না করা। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ইনকগনিটো সেশন শেষ হলে ক্রোম ব্রাউজার সাধারণত সেই সেশনের সাইট ডাটা এবং আপনি কোন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেছেন তার কোনো রেকর্ড ডিভাইসে ধরে রাখে না। উইন্ডো বন্ধ করলেই সাময়িকভাবে ব্যবহৃত কুকিজ ও সাইটের তথ্য মুছে যায়। অর্থাৎ, একই কম্পিউটার বা মোবাইল অন্য কেউ ব্যবহার করলে তিনি ব্রাউজার হিস্ট্রি ঘেঁটে জানতে পারবেন না আপনি কোথায় গিয়েছিলেন।

এই কারণেই যৌথভাবে বা শেয়ার করা কম্পিউটার ব্যবহার করা, গোপন কোনো উপহার খোঁজা কিংবা সাময়িকভাবে অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার মতো কাজের ক্ষেত্রে ইনকগনিটো মোড যথেষ্ট উপকারী। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার, আপনি যে নেটওয়ার্কে যুক্ত আছেন তার প্রশাসক বা ভিজিট করা ওয়েবসাইটগুলিও আপনার গতিবিধি দেখতে পায় না। ফলে অন্ধের মতো এর ওপর ভরসা করার আগে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *