ছবি থেকে মোদিকে ছাঁটাইয়ের চেষ্টা! পরে সমালোচনার মুখে পড়ে ইউটার্ন নিল পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতর

আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে ফের একবার নিজেদের সঙ্কীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিল পাকিস্তান। কিরগিজস্তানের বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের একত্রে মিলিত হওয়ার একটি ছবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল শোরগোল। অভিযোগ উঠেছে, এই ঐতিহাসিক সম্মেলনের গ্রুপ ছবি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অত্যন্ত সুকৌশলে কেটে বা ছেঁটে বাদ দিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের দফতর।
ছবির কারিকুরি ও পাকিস্তানের উদ্দেশ্য: বিশকেকের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা যোগ দিয়েছিলেন। নিয়মমাফিক সমস্ত নেতার উপস্থিতিতে একটি যৌথ ছবিও তোলা হয়। কিন্তু পাক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে যে ছবিটি পোস্ট করা হয়, তাতে দেখা যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্পূর্ণভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী, ছবিতে এমনভাবে কাঁচি চালানো হয় যাতে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে ফ্রেমের কেন্দ্রবিন্দু বা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
যদিও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অফিসিয়াল হ্যান্ডেল থেকে সম্পূর্ণ ও আসল ছবিটিই শেয়ার করা হয়, যেখানে কোনো রকম রাখঢাক বা কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব রাষ্ট্রনেতাকে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। পাকিস্তানের এই শিশুসুলভ ও সংকীর্ণ আচরণ প্রকাশ্যে আসতেই আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ নেটনাগরিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ইসলামাবাদ। শেষ পর্যন্ত তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে আসল ছবিটিই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে বাধ্য হয় পাক প্রধানমন্ত্রীর দফতর।
সম্মেলনের অন্যান্য চাঞ্চল্যকর মুহূর্ত: শুধু ছবি থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্তই নয়, এই এসসিও সম্মেলনে শেহবাজ শরিফের বেশ কিছু অস্বাভাবিক আচরণও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছবি তোলার পর রাষ্ট্রনেতারা যখন মঞ্চ থেকে নিচে নেমে যাচ্ছেন, তখন হঠাৎ করেই হাঁটার গতি বাড়িয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কনুই ধরে জোড়াজুড়ি শুরু করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, পুতিন এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে অত্যন্ত সাবলীল ও হাসিমুখে খোশগল্প করতে দেখা যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। সব মিলিয়ে, বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের এই হীন মানসিকতা এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।