পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চরম বার্তা মোদির! এসসিও সম্মেলনে সাফ জানালেন, ‘দ্বিচারিতা চলবে না’

সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করা দেশগুলির বিরুদ্ধে আর কোনো রাখঢাক নয়, এবার একেবারে সরাসরি রুখে দাঁড়ানোর কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর শীর্ষ সম্মেলনে দাঁড়িয়ে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, যখন প্রধানমন্ত্রী এই হুংকার ছাড়ছেন, তখন ঠিক সামনের সারিতেই উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
সন্ত্রাস দমনে নেই কোনো দ্বিচারিতা: সম্মেলনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন যে, সন্ত্রাসবাদ সমগ্র মানবজাতির জন্য এক মারাত্মক অভিশাপ। জঙ্গিবাদ দমনের ক্ষেত্রে কেবল আক্রমণ আর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সন্ত্রাসবাদে আর্থিক মদত জোগানো, নতুন জঙ্গি নিয়োগ, মৌলবাদ ছড়ানো এবং তাদের নিরাপদ স্বর্গরাজ্য তৈরি করে দেওয়ার পুরো সিস্টেমটাই চিরতরে ধ্বংস করতে হবে। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর হুঁশিয়ারি, এই অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো ধরনের দ্বিচারিতা বরদাস্ত করা হবে না। দেশগুলিকে পরিষ্কার বার্তা দিতে হবে যে, সন্ত্রাসবাদকে কখনোই কোনো দেশের পলিসি বা নীতি হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
পুতিনকে যুদ্ধ থামানোর পরামর্শ ও চিনকে খোঁচা: এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, একটি যুদ্ধ শেষ করে নতুন যুদ্ধ না বাড়িয়ে বরং চিরতরে যুদ্ধটাই বন্ধ হওয়া উচিত। পাশাপাশি, পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান অশান্তি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিন নাম না করে চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রজেক্টকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী কোনো প্রজেক্ট তৈরি করার সময় প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে, কারণ এটাই এসসিও চার্টারের মূল ভিত্তি। উল্লেখ্য, চিনের এই বিতর্কিত প্রজেক্টের একটি অংশ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে)-এর ওপর দিয়ে গিয়েছে। সবমিলিয়ে, বিশকেকের এই বিশ্বমঞ্চ থেকে ভারতের কঠোর ও আপসহীন কূটনৈতিক অবস্থান ফের একবার জোড়ালোভাবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।