যৌন হেনস্তার প্রতিবাদ করলেই কি কাজ মেলে না? টলিউডের অন্ধকার দিক নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে শোরগোল ফেললেন অভিনেত্রী

টলিপাড়ায় কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা এবং বহুল চর্চিত ‘মি টু’ (#MeToo) আন্দোলন নিয়ে ফের একবার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে মুখ খুললেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। অতীতে ফেসবুকে সরাসরি নাম না করে দুই প্রভাবশালী প্রযোজকের বিরুদ্ধে সরব হওয়া থেকে শুরু করে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক—সব ক্ষেত্রেই নিজের অবস্থানে অনড় থেকে এবার তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এই লড়াই কোনোভাবেই থামাবেন না।
কেন এতদিন তিনি এই বিষয়ে মুখ খুলতে দেরি করেছিলেন? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে একটুও রাখঢাক করেননি অভিনেত্রী। তাঁর স্পষ্ট কথা, কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলোতে একটা অজানা ভয় কাজ করত। নতুন একটি মেয়ে যখন ইন্ডাস্ট্রি তে নিজের জায়গা তৈরি করতে আসে, তখন তার মনে এই সংশয় থাকে যে লোকে হয়তো তাঁকে ভুল বুঝবে এবং মনে করবে কাজ না পাওয়ার ফলেই তিনি নির্মাতাদের বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছেন। ঠিক এই ভয়েই একসময় তাঁকে মুখ বুজে সব সহ্য করতে হয়েছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে বলে দাবি করেছেন ঋতাভরী। তাঁর আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, আজ তাঁর জীবনে এমন একটা শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে যে কেউ যদি তাঁর গায়ে হাত দেওয়ার বা যৌন নির্যাতনের স্পর্ধা দেখায়, তবে তিনি তাঁকে মাঝ রাস্তায় উলঙ্গ করে দাঁড় করাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করবেন না। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পূর্ব ভারতের একজন অভিনেত্রী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি ফলোয়ার্স তাঁরই রয়েছে।
উল্লেখ্য, সমস্ত আপত্তিকর টেক্সট এবং অন্যায়ের ডিজিটাল প্রমাণ তিনি সযত্নে বাঁচিয়ে রেখেছেন। তবে সোশ্যাল মিডিয়াকে কুৎসার আখড়া বা সস্তা ট্রায়াল গ্রাউন্ড বানাতে নারাজ তিনি; বরং আইনি ও সুশৃঙ্খল পথেই অপরাধীদের মুখোশ খুলতে চান। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কেরালার আলোড়ন ফেলা ‘হেমা কমিটি’-র রিপোর্টের আদলে বাংলার ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা ও লিঙ্গ সমতা রক্ষায় সোচ্চার হয়েছিলেন ঋতাভরী। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পর একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠনের আশ্বাস মিলেছিল। বর্তমান সরকারের কাছেও তিনি এই বিষয়ে আরও সুনির্দিষ্ট ও জোরালো পিটিশন জমা দিয়েছেন। ‘বহুরূপী’ বা ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’-র মতো জনপ্রিয় ছবির সফল মুখ আজ কেবল রূপালী পর্দার তারকা নন, বরং টলিপাড়ার অন্দরের ক্ষমতালোভী ও শোষকদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।