মৃতের সংখ্যা ছাড়াল ৮০০, নিখোঁজ ৩ হাজারেরও বেশি! নেপালের জলপ্রলয় নিয়ে এল নতুন ভয়ের খবর

ভয়াবহ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যায় ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন হিমালয় এলাকা। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং বিগত ৬ দিনে নিখোঁজের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন হাজার। এর মাঝেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে ভোটেকেশী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া। নতুন করে পাহাড়ি হ্রদ তৈরির ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় প্রশাসনের তরফে ফের নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা কেন? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের ওয়াটার রিসোর্সেস মন্ত্রকের তথ্য জানাচ্ছে যে পাহাড়ি এলাকায় ফের নতুন হ্রদ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। নদীর উপরিভাগে একটি বিশাল গর্তে প্রায় ১৪ লক্ষ ঘনমিটার জল জমে থাকায় নতুন করে বন্যার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এদিকে, রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার হাসপাতালগুলিতে স্বজনহারা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। মর্গে পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকায় ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করে মরদেহগুলি গণসৎকার করতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক সাহায্য ও উদ্ধারকাজ: নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল এই বিপর্যয়কে জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম পরিণতি বলে উল্লেখ করেছেন। দেশ পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারী উদ্ধারকারী ড্রোন, ফরেনসিক কিট এবং বিশেষ হিমঘরের সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে নেপাল। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘ জরুরি ত্রাণ তহবিলের বড় অঙ্কের অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেছে।