“ওটা অবাধ্যতা নয়, গণতন্ত্রের অঙ্গ!” ছাত্রছাত্রীদের অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক বার্তা দিলেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছাত্রছাত্রীদের ভিন্ন মত প্রকাশ বা কঠিন প্রশ্ন তোলার অধিকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁ। দিল্লির ন্যাশনাল ল’ ইউনিভার্সিটির ১৩তম সমাবর্তনে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, মতের অমিল বা প্রশ্ন করার জন্য কোনো শিক্ষার্থীকে শাস্তির ভয় দেখানো সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসাংবিধানিক।

রবিবার স্নাতকোত্তর পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিচারপতি ভুইয়াঁ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি মুক্ত জায়গা যেখানে প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করা এবং যুক্তির মাধ্যমে তার বিরোধিতা করার পূর্ণ সুযোগ থাকা উচিত। ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা অগণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচায়ক। তাঁর মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতেই স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে ওঠে, আর সেখানে কোনো পড়ুয়া যাতে কঠিন প্রশ্ন করতে ভয় না পান, সেটাই একটি সুস্থ সমাজের লক্ষণ।

সংবিধানের মূল কাঠামোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিচারপতি বলেন, একটি মুক্ত সমাজে ভিন্নমত এবং মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। বুদ্ধ ও মহাত্মা গান্ধীর দেশে অসহিষ্ণু মানসিকতার কোনো স্থান নেই। অসহিষ্ণুতা এক প্রকার হিংসা, যেখানে মতের অমিলকে দমন বা শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে সংবিধানের স্বাধীনতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। মতপার্থক্যকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে পথ চলার ক্ষমতা থাকলেই তবে একটি প্রকৃত উদার গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে ওঠে বলে মতপ্রকাশ করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *