প্রথম দিকে পরপর ফ্লপ, কীভাবে বাংলা সিনেমার ‘মহানায়ক’ হয়ে উঠলেন উত্তম কুমার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ মহানায়ক উত্তম কুমারকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেতার জন্মশতবর্ষ। তার ঠিক আগে প্রধানমন্ত্রী তাঁর অভিনয়জীবন এবং বাংলা সিনেমায় অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন।
১৯২৬ সালে অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় হিসেবে জন্মগ্রহণ করা উত্তম কুমারকে ‘বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বিভিন্ন চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি চিরতরে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে তিনি শুধু সফল অভিনেতা হিসেবেই নয়, বরং পরিচালক, প্রযোজক, সুরকার এবং চিত্রনাট্যকার হিসেবেও ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের ছাপ রেখে গেছেন। ইউটিউবে তাঁর পুরনো সিনেমাগুলির ভিউ এবং দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তাই প্রমাণ করে যে তিনি আজও বাংলার সর্বকালের সেরা অভিনেতা।
‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে মহানায়কের জুটির প্রসঙ্গও টানেন। তিনি ১৯৬৬ সালের সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র ‘নায়ক’-এর কথা উল্লেখ করে জানান, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের একাংশের বিশ্বাস সত্যজিৎ রায় খাস করে উত্তম কুমারকে মাথায় রেখেই ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছিলেন। সেই ছবিতে অরিন্দম মুখোপাধ্যায় নামের এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকার চরিত্রে মহানায়কের নিখুঁত অভিনয় বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।
তবে আজকের এই গ্ল্যামারাস সাফল্যের পথটা এতটাও সহজ ছিল না। ১৯৪৮ সালে ‘দৃষ্টিদান’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করলেও প্রথম দিকে তাঁর বেশ কয়েকটি ছবি পরপর ফ্লপ হয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। অবশেষে ১৯৫২ সালে ‘বসু পরিবার’ ছবির সাফল্য তাঁর ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেয়। এর পরের বছর ১৯৫৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবি বক্স অফিসে বাম্পার হিট হয় এবং জন্ম নেয় বাংলা সিনেমার সোনালী ইতিহাসের অন্যতম সেরা উত্তম-সুচিত্রা জুটি। ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘হারানো সুর’ বা ‘সপ্তপদী’-র মতো ক্লাসিক ছবি উপহার দেওয়া এই জুটির পর্দার রসায়ন আজও সমানভাবে আলোচিত। অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ এবং ‘চিড়িয়াখানা’ ছবির জন্য তিনি প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান।
মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মহানায়কের জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু মৃত্যুর এত বছর পরেও তাঁর জনপ্রিয়তা একটুও ম্লান হয়নি। জন্মশতবর্ষের প্রাক্কালে মোদীর এই বার্তা ফের একবার প্রমাণ করে দিল যে বাংলা সিনেমার এই মুকুটহীন সম্রাট শুধু বাংলাতেই নয়, সমগ্র ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন।