মর্গে জায়গা নেই! ভয়াবহ বন্যায় মৃতদের গণহারে কবর দিচ্ছে নেপাল, পরিচয় জানতে রইল বিশেষ ব্যবস্থা

ভয়াবহ বন্যা ও হড়পা বানের গ্রাসে বিপর্যস্ত নেপাল। লাগাতার উদ্ধারকাজে একের পর এক পরিচয়হীন মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চরম সংকট তৈরি হয়েছে। মর্গ এবং অস্থায়ী দেহ সংরক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় এবং মৃতদেহে পচন ধরতে শুরু করায় বাধ্য হয়েই গণহারে দেহগুলি সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল সরকার।

কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। আটটি জেলা থেকে এখনও পর্যন্ত বহু মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। হাসপাতাল ও মর্গগুলিতে মৃতদেহের পাহাড় জমে যাওয়ায় এবং পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই চিতওয়ান জেলা নিরাপত্তা কমিটির উদ্যোগে দেবঘাটের একটি খোলা জায়গায় মৃতদেহগুলিকে গণহারে সমাধিস্থ করা শুরু হয়েছে।

পরিচয় নিশ্চিত করতে বিশেষ ফরেন্সিক ব্যবস্থা

দেহগুলি কবর দেওয়া হলেও নিখোঁজ স্বজনরা যাতে পরবর্তীতে প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারেন, তার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। নেপালের ‘Unidentified and Unclaimed Bodies Management’ কমিটির নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দেহের—

  • বাধ্যতামূলকভাবে ডিএনএ (DNA) নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

  • প্রতিটি দেহকে একটি নির্দিষ্ট রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হচ্ছে।

  • মৃতের ছবি, শারীরিক বিবরণ, পরিহিত পোশাক, গয়না এবং পরিচয়পত্র সংরক্ষিত হচ্ছে।

  • কোন নির্দিষ্ট স্থানে দেহটি সমাধিস্থ করা হয়েছে, তার সমস্ত নথি ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সুরক্ষিত রাখা হচ্ছে।

এছাড়াও, নেপাল পুলিশ পরিচয়হীন মৃতদের যাবতীয় তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে রাসুয়া জেলায় উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির তথ্য সাধারণ মানুষ যাতে খুব সহজেই জানতে পারেন, তার জন্য QR কোড স্ক্যান করার ব্যবস্থা অথবা পুলিশের অফিসিয়াল অনলাইন ডেটাবেসের সাহায্য নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মৃতদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সাতজন ফরেন্সিক প্যাথলজিস্ট ও ডেন্টাল সার্জন সহ ৪০ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দল দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *