মোবাইল হারালেই আর চিন্তা নেই! সরকারের এই জাদুকরী অ্যাপ নিমেষেই ফিরিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার হারিয়ে যাওয়া স্মার্টফোন

হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া স্মার্টফোন উদ্ধারে এক অভাবনীয় সাফল্য পেল কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi) পোর্টাল। ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন (DoT)-এর তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই দেশজুড়ে মোট ৭৭,৬৯২টি হারিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি চালু হওয়ার পর থেকে এটিই মাসিক মোবাইল উদ্ধারের সর্বকালীন রেকর্ড। কেন্দ্রের এই বিরাট সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় টেলিকমিউনিকেশন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া।
কীভাবে মিলছে এই সাফল্য?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ার পাশাপাশি DoT, টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশের মধ্যে সমন্বয় এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিজিটাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট এবং স্থানীয় থানাগুলির যৌথ প্রচেষ্টাতেই ফোনগুলির রিয়েল-টাইম লোকেশন ট্র্যাক করা সহজ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যে মাসিক মোবাইল উদ্ধারের হার একলাফে ২০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
কী পরিবর্তন আনা হয়েছে প্রক্রিয়ায়?
চুরি যাওয়া ফোন উদ্ধারের পদ্ধতিকে আরও গ্রাহকবান্ধব করতে সঞ্চার সাথীতে একাধিক নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে ফোন ট্রেস হওয়ার পর এসএমএস, ইমেল ও অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি পুলিশ স্টেশনের নামসহ বিস্তারিত তথ্য মালিকের কাছে পৌঁছে যায়। এমনকি চুরি যাওয়া ফোনে নতুন কোনো সিম কার্ড ঢুকলেও সঙ্গে সঙ্গে তার আপডেট চলে যায় পুলিশের কাছে। এছাড়া ফোন উদ্ধারের পর ম্যালওয়্যার বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকি এড়াতে ফোনটি ফ্যাক্টরি রিসেট করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন সঞ্চার সাথী?
আপনার দামি স্মার্টফোনটি হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে সামান্য কিছু সহজ পদক্ষেপে তা সুরক্ষিত করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে ‘সঞ্চার সাথী’র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করতে হবে। রিপোর্ট জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ফোনটিকে ভারতের টেলিকম নেটওয়ার্কে সম্পূর্ণ ব্লক করে দেওয়া হয়, যাতে কেউ সেটির অপব্যবহার করতে না পারে।