BigNews: হঠাৎ উপর থেকে বোমা এসে পড়ল ভারতে, আতঙ্কে ছুটে পালালো সকলে

ভারতে বোমাবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী মিয়ানমারের জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে সীমান্তবর্তী মিজোরামের অভ্যন্তরে বোমাবর্ষণ করেছে মিয়ানমার বাহিনী।
এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ জানুয়ারি সীমান্ত মিয়ানমারের চিন রাজ্যে সশস্ত্র বিদ্রোহীগোষ্ঠী চিন ন্যাশনাল আর্মির (সিএনএ) ওপর বিমান হামলা চালায় দেশটির সামরিক বাহিনী। বিমান বাহিনীর উড়োজাহাজ থেকে সীমান্ত এলাকায় সিএনএ-র সদর দফতরকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। বিমান থেকে বোমাবর্ষণের সময় অন্তত দুইটি সীমান্তের ওপারে ভারতের ফারকাওয়ান গ্রামে গিয়ে পড়ে।

দিল্লির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা দ্য গার্ডিয়ানের কাছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত এলাকার সম্প্রতিক অস্থিরতা সম্পর্কে আমরা অবগত। সামগ্রিক পরিস্থিতি এখন আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওয়ায় রয়েছে।’

এদিকে মিজোরামের একটি সামাজিক সংগঠন ইয়াং মিজো অ্যাসোসিয়েশন শুক্রবার দাবি করেছে, ‘বোমাটি যে শুধু ভারতের মাটিতে পড়েছে তাই নয় ভারতীয় একটি বেসামরিক গাড়িও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই গাড়িটি টিয়াউ নদী থেকে বালু তুলছিল। টিয়াউ নদীটি ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যবর্তী আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃত।’

মিয়ানমারের সংবাদপত্র দ্য ইরাবতী জানিয়েছে, গণতন্ত্রকামী সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন চিন ন্যাশনাল আর্মির রাজনৈতিক শাখা চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের সদরদপ্তর ক্যাম্প ভিক্টোরিয়ায় চলতি সপ্তাহে অন্তত দুই দফায় বোমা ফেলেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। দুই নারীসহ চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের পাঁচ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মিয়ানমারের বিমানবাহিনী প্রথম হামলাটি করে মঙ্গলবার দুপুরে।

হামলা বাড়ার আশঙ্কা করছেন মিজোরামের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ। তারা বলছেন, চিন প্রদেশে বোমা হামলার তীব্রতা ফকাওয়ানে অনুভূত হচ্ছে। এতে বাড়িঘর কাঁপছে ও ফাটল ধরছে।

ফকাওয়ান গ্রাম সংসদের সভাপতি লালরমলিয়ানা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, মানুষের উদ্বেগে থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ বোমা এখন মিজোরামের সীমান্তে পড়তে শুরু করেছে।

লালরমলিয়ানা বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর শিবির (ক্যাম্প ভিক্টোরিয়া) থেকে আমাদের গ্রামের দূরত্ব খুবই কম। তাই সামান্য এদিক–ওদিক হলে বোমা আমাদের গ্রামে পড়বে এবং পড়ছেও। বোমা পড়ে বালু তোলার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাড়িটি গ্রাম সংসদেরই এক সদস্যের। তবে রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার এ নিয়ে মিয়ানমারকে সতর্ক করছে না দেখে আমরা বিষয়টি নিয়ে অবাক হচ্ছি।’

চম্পাই জেলা প্রশাসক জেমস লালরিঞ্চানা বলেছেন, বোমা হামলার বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে এই সপ্তাহেই প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে। এ ছাড়া লালরিঞ্চানা বলেছেন, গত কয়েকদিনে তিনি নিজেও অন্তত আটবার বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।

এর আগামী সপ্তাহে চিন প্রদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অনেকে ভারতে ঢুকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অতীতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে সীমান্ত বন্ধের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন মিজোরামের মানুষ। এর কারণ, চিন প্রদেশের মানুষের সঙ্গে তাদের সামাজিক ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হলে সহিংস দমননীতি গ্রহণ করে জান্তা সরকার। এতে এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছে কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। এই সহিংসতার জেরে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সম্মিলিত হয়ে গঠন করে পিপলস ডিফেন্স ফোর্সেস (পিডিএফ)। চিন ন্যাশনাল আর্মিও পিডিএফের অন্যতম সদস্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *