কুমড়োর বীজ থেকে ধানের শিষ! নদিয়ার মহিলাদের এই অভিনব রাখি দেখলে চোখ কপালে উঠবে

নদীর ধারে ফেলে দেওয়া কচুরিপানা, ধানের শিষ, কুমড়োর বীজ কিংবা শসার খোসা— যে জিনিসগুলোকে আমরা আবর্জনা ভেবে দূরে সরিয়ে দিই, সেগুলির কদর এখন আকাশছোঁয়া! সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সাধারণ সুতো বা রেশমের গণ্ডি পেরিয়ে এবার একেবারে অন্যরূপ নিয়েছে ভাই-বোনের ভালোবাসার প্রতীক রাখি। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা প্রতিবারের মতো এবারও বাজারে এনেছেন তাক লাগানো সব সৃষ্টি। গাছের পাতা, কলাগাছের কাণ্ড থেকে শুরু করে পোস্তার খোসা দিয়ে তৈরি পরিবেশবান্ধব এই রাখিগুলি এখন তাক লাগিয়ে দিচ্ছে ক্রেতাদের।
শান্তিপুর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী চন্দননগর সমবায় সমিতির স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বছরের পর বছর ধরে নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে চলেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকৃতি প্রেম এবং তাঁর ভাবনাকে মানুষের মনে নতুন করে তুলে ধরতেই এবছর মূলত প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হয়েছে এই ‘নেচার’ রাখি। আগের বছরগুলিতে পাট, কাঠের গুঁড়ো, ভুট্টার খোসা এবং তালপাতা দিয়ে রাখি তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন তাঁরা। আর এবছর সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে শসার বীজ, কুমড়োর বীজ এবং পোস্তার খোসার মতো সম্পূর্ণ অভিনব ও ফেলনা জিনিস।
শুধু দেখতে সুন্দর হওয়াই নয়, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে এই রাখিগুলির দামও রাখা হয়েছে অত্যন্ত কম। মাত্র ৫, ১০ এবং ২০ টাকার বিনিময়ে মিলছে এই আকর্ষণীয় রাখিগুলি। সমবায় সমিতির সভাপতি শুভদীপ চৌধুরী জানান, মহিলারা প্রতিবছরই নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন এবং এবছরের প্রকৃতিবান্ধব সৃষ্টি ইতিমধ্যেই দারুণ সাড়া ফেলেছে। নদিয়া জেলার গণ্ডি পেরিয়ে এই রাখি এখন পৌঁছে গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের দোকানেও।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই যুগে প্রতিটি মানুষই নিত্যনতুন চমক খোঁজে। আর সেই চাহিদাকে পুঁজি করেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য প্রিয়া মণ্ডল ও তাঁর সঙ্গীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, ইচ্ছা থাকলে ফেলে দেওয়া জিনিস দিয়েও স্বাবলম্বী হওয়া যায়। দেশীয় উপকরণের তৈরি এই নজরকাড়া রাখি শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কই মজবুত করছে না, বরং পরিবেশ রক্ষার এক শক্তিশালী বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে ঘরে ঘরে।