ভোটকোশী-ত্রিশূলীতে মহাপ্রলয়! নেপালের ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ শত শত ভারতীয়, চলছে মেগা সার্চ অপারেশন

নেপালের ভোটকোশী, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর তীব্র ও বিধ্বংসী বন্যায় বিপর্যস্ত জনজীবন। সর্বগ্রাসী এই জলপ্রলয়ে বহু মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ভারতীয় নাগরিক। সরকারি ও স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভয়ংকর এই বন্যায় প্রায় ৩০০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় উপদ্রুত এই মানুষগুলোর কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারী দলগুলির কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কীভাবে চলছে উদ্ধারকাজ?

নেপালের চরম ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলিতে বর্তমানে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, নিরাপত্তা বাহিনী আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে নদীতে দক্ষ ডুবুরি দল—সবকিছুর সাহায্য নিচ্ছে। বিশেষ করে চিন সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর, যেখানে সর্বাধিক সংখ্যক মানুষের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। নিখোঁজ এই তালিকায় সাধারণ পর্যটক থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার নেপালি সেনা তিমুরে ও মাইলুং এলাকায় একটি দুঃসাহসিক আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২০ জন বিদেশি নাগরিক সহ মোট ১২৫ জনকে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে সব জায়গায় হেলিকপ্টার নামানো সম্ভব না হওয়ায়, প্রশাসন নদীপথে তল্লাশি শুরু করেছে।

নিখোঁজ না কি কেবল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন?

সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১১৪ জন প্রশিক্ষিত ডুবুরিকে উত্তাল নদীতে নামানো হয়েছে। ভোটকোশী থেকে শুরু করে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদীর উজানে বিভিন্ন পয়েন্টে চলছে চিরুনি তল্লাশি। নিখোঁজদের খোঁজার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের সঠিক অবস্থান ট্র্যাক করা।

প্রশাসনের কর্তারা জানাচ্ছেন, বন্যার হাত থেকে প্রাণ বাঁচাতে অনেক মানুষই হয়তো নিরাপদ উঁচু স্থানে পালিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে তাঁরা পরিবার বা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। অর্থাৎ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা মানেই যে তাঁরা নিখোঁজ, এমনটা নয়।

পরিবারের জন্য হেল্পলাইন ও টোল-ফ্রি নম্বর

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলি শনাক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল ও ভারতীয় প্রশাসন। তবে ভাষা ও চেনার উপায় না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই মৃতদেহ শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যদের সাহায্যার্থে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর (১২৩৪) চালু করা হয়েছে, যেখানে যোগাযোগ করে নিখোঁজ স্বজনদের সম্পর্কে তথ্য জানতে পারছেন সাধারণ মানুষ। খুব শীঘ্রই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল হলে নিখোঁজদের আসল চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *