আবাস যোজনার সমীক্ষা করতে গিয়ে রক্তারক্তি কাণ্ড! একটু অপেক্ষা করতে বলায় সরকারি কর্মীর মাথা ফাটাল বাবা-ছেলে

রাজ্যের বুকে ফের সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি কর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার (PM Awas Yojana) ঘরের জন্য সমীক্ষা করতে গিয়ে চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার হলেন পঞ্চায়েতের কর্মীরা। কেবল বৃষ্টির কারণে একটু পরে সমীক্ষা করার কথা বলাতেই এক কর্মীকে বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ উপভোক্তা ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার কোটশিলা থানার চেক্যা গ্রামে।
ঠিক কী ঘটেছিল ঘটনার দিন? পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার ঝালদা-২ নম্বর ব্লকের তিনজন কর্মী চেক্যা গ্রামে আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজে গিয়েছিলেন। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে যোগ্য উপভোক্তাদের তথ্য সংগ্রহ করছিলেন।
-
বচসার সূত্রপাত: সেই সময় এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। লালা কুমার নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি কর্মীদের তাঁর বাড়ির সমীক্ষা তৎক্ষণাৎ করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কর্মীরা জানান, বৃষ্টিটা একটু কমলেই তাঁরা ওই বাড়ির সমীক্ষা করে দেবেন।
-
হামলা ও মারধর: অভিযোগ, এই সামান্য কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন লালা কুমার। তিনি কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। এরপর বাড়ি থেকে ছেলে লাদেন কুমার ও আরও একজনকে ডেকে আনেন। তাঁরা এসে ধর্মেন্দ্র মাঝি নামে এক পঞ্চায়েত কর্মীর ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। এই হামলায় ধর্মেন্দ্র মাঝির মাথায় গুরুতর চোট লাগে।
কী বলছে পুলিশ ও প্রশাসন? আক্রান্ত কর্মী ধর্মেন্দ্র মাঝি কোটশিলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্ত লালা কুমার এবং তাঁর ছেলে লাদেন কুমারকে গ্রেপ্তার করে।
-
মঙ্গলবার ধৃতদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ছেলে লাদেনকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজত এবং বাবা লালা কুমারকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
-
পুরুলিয়া জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই হামলার নেপথ্যে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে পুলিশি হেফাজতে থাকা ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: এই ঘটনার পর থেকে আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজে যুক্ত ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যজুড়ে যেখানে আবাস যোজনা নিয়ে কড়াকড়ি চলছে, সেখানে প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে সমীক্ষাকর্মীদের নিরাপত্তা আদৌ কতটা সুনিশ্চিত, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।