হঠাৎ আস্থা ভোট থেকে সরে দাঁড়াল কংগ্রেস! জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের কপালে কি তবে বড় বিপদের মেঘ?

জলপাইগুড়ি পুরসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ! অনাস্থা ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করল কংগ্রেস

জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনীত অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। একদিকে যখন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবিরের অন্তর্ঘাত ও টানাপড়েন চরমে, ঠিক সেই সময় এক বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিল হাত শিবির। ২৭ আগস্টের অনাস্থা ভোট থেকে নিজেদের সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নেওয়ার কথা ঘোষণা করল জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব। এর ফলে পুরসভার আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ আরও বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কংগ্রেসের অবস্থান ও বর্তমান পরিস্থিতি:

  • গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত: জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে দলের জেলা সভাপতি অমিত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের এই ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই দলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা আস্থা ভোটে কোনো কংগ্রেস কাউন্সিলরই অংশ নেবেন না।

  • পুর পরিষেবা নিয়ে তীব্র আক্রমণ: শুধু নিরপেক্ষ থাকাই নয়, কংগ্রেস কাউন্সিলর শুভ্রা দেব বর্তমান পুরসভাকে ‘অস্তগামী সূর্য’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, পরিষেবা ভেঙে পড়ায় সাধারণ মানুষের কাছে তাঁদের কৈফিয়ত দিতে হচ্ছে। অপর কাউন্সিলার অম্লান মুন্সিও বিগত পুরভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে শাসকদলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

চেয়ারম্যানের ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক সঙ্কট: আগামী ২৭ আগস্টের এই অনাস্থা বৈঠক ঘিরে জলপাইগুড়িতে রাজনৈতিক পারদ এখন চড়বড়িয়ে বাড়ছে। চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দলেরই একাংশের কাউন্সিলররা অনাস্থা আনলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের চেয়ার ধরে রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, একের পর এক শোকজ নোটিশ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার জেরে জলপাইগুড়ি পুরসভার অন্দরে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।

 

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *