সাধারণ গমের দাম ছাড়াল আকাশ! ২ হাজার বছরের পুরনো ‘সোনা মোতি’ গম বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার টাকা কুইন্টারে!

২ হাজার বছরের পুরনো ‘সোনা মোতি’ গম বিক্রি হচ্ছে ১২,০০০ টাকা কুইন্টাল দরে! তাক লাগালেন তরুণ কৃষক
সাধারণ গমের বাজারদর যেখানে একপ্রকার নির্দিষ্ট পরিধির মধ্যেই ঘোরে, সেখানে কুইন্টাল প্রতি ১২,০০০ টাকা বা কেজি প্রতি ১২০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে এক বিশেষ জাতের গম। আর এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের গুনা জেলার এক তরুণ কৃষক অর্জুন প্রধান। সম্রাট বিক্রমাদিত্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কৃষি নিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, একটু বুদ্ধি খাটিয়ে চাষ করলে প্রাচীন ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে এনেও বাম্পার লাভ করা সম্ভব।
‘সোনা মোতি’ গমের আসল রহস্য কী?
-
প্রাচীন ঐতিহ্য ও নাম: প্রায় ২,০০০ বছর ধরে ভারতে এই জাতের গম চাষ হয়ে আসছে বলে ধারণা করা হয়। এর দানাগুলো আকারে ছোট, গোলাকার এবং সোনালি রঙের হওয়ার কারণে একে ‘সোনার মুক্তা’ বা ‘সোনা মোতি’ বলা হয়।
-
বিশাল সাফল্যের পথ: মাত্র দুই বছর আগে অর্জুন মাত্র এক বিঘা জমিতে এই চাষ শুরু করেছিলেন। ধীরে ধীরে চাহিদা বাড়ায় বর্তমানে তিনি প্রায় ২০ বিঘা জমিতে এই ফসলের চাষ করছেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তা সরবরাহ করছেন।
-
বাজারদরের আকাশছোঁয়া চাহিদা: সাধারণ পাইকারি বা মান্ডি বাজারের ওপর নির্ভর না করে অর্জুন সরাসরি ক্রেতাদের কাছে এই গম বিক্রি করেন। প্যাকেটজাত হওয়ার পর খুচরা বাজারে এই গম প্রতি কেজি প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।
পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত চর্চা: এই গমের ব্যাপক চাহিদার পেছনে রয়েছে এর পুষ্টিগুণ সংক্রান্ত নানা আলোচনা। সাধারণ গমের তুলনায় এতে প্রোটিন, খনিজ উপাদান এবং ফোলেটের পরিমাণ বেশি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম বলে দাবি করা হয়। অনেক বিক্রেতা একে ‘সুগার-ফ্রি’ বা শর্করা-মুক্ত গম হিসেবে বাজারজাত করলেও, চিকিৎসকদের মতে ডায়াবেটিস রোগীদের এটি ডায়েটে যোগ করার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তবে প্রথাগত চাষের বাইরে বেরিয়ে এক নতুন ও স্বতন্ত্র বাজার তৈরি করে তরুণ প্রজন্মের কৃষকদের জন্য এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন অর্জুন।