মধ্যপ্রাচ্যে বড় কূটনৈতিক মোড়! আচমকায় তেলের দাম তলায়ে যাওয়ায় বিরাট লাভ হতে চলেছে ভারতের

আন্তর্জাতিক বাজারে ফের একবার স্বস্তির ছবি। টানা তিন দিন ধরে বিশ্ববাজারে তীব্র পতনের মুখ দেখল অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil Price)। গত ২৬ আগস্ট ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.১৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৬.৩৯ ডলারে নেমে এসেছে, যা ৮৭ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে নিচে অবস্থান করছে। পাশাপাশি, ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দামও ১.৮৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির এই আকস্মিক মূল্যপতন ভারতের মতো আমদানি নির্ভর দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তেলের দাম কমার নেপথ্য কারণ কী? আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার পেছনে কাজ করছে একটি বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে ইরান এবং ওমানের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। ওমান নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার পর একটি ‘অস্থায়ী যৌথ সামুদ্রিক করিডোর’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি আগামী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের জন্য একটি স্থায়ী পথ তৈরির পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যা তেলের সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করবে।
ভারতের জন্য কেন এই পতন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ? ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে ভারতের আমদানি খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে অপরিশোধিত তেলের দাম একসময়ে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সমুদ্রপথে যাতায়াত স্বাভাবিক হওয়ার পদক্ষেপে তেলের বাজারে ফের নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে। এর জেরে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে আসার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ভারতীয় অর্থনীতির জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়ে এসেছে।