হোটেল থেকে কুইক-কমার্স ডার্ক স্টোর—ধরা পড়তেই নজিরবিহীন পদক্ষেপ! কে এই আইএএস তুকারাম মুন্ডে?

প্রশাসনিক কেরিয়ারে ২১ বছরে ২৫ বার বদলি! তবুও নিজের নীতি ও আদর্শ থেকে একচুলও নড়েননি মহারাষ্ট্রের ‘দাবাং’ আইএএস আধিকারিক তুকারাম মুন্ডে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ উন্মাদনা—কেউ তাঁকে বলেন ‘সিস্টেমের বিরুদ্ধে একা লড়াই করা মানুষ’, তো কেউ আবার আখ্যা দেন ‘মধ্যবিত্তের নায়ক’ হিসেবে। রাজনৈতিক চাপ বা বারবার বদলির খাঁড়া—কোনোকিছুই তাঁর কাজের গতি আটকাতে পারেনি। নিয়মের বইকে আঁকড়ে ধরে তিনি এখন ত্রাস হয়ে উঠেছেন অসাধু ব্যবসায়ী ও খাদ্য প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির কাছে।

বর্তমানে মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) কমিশনারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তুকারাম মুন্ডে। গত ২৬ মে এই পদে বসার পর থেকেই রাজ্যের মানুষের খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ময়দানে নেমে পড়েছেন তিনি। তাঁর কড়া নজর এড়াচ্ছে না কিছুই—নামী রেস্তরাঁ ও বার থেকে শুরু করে কুইক-কমার্স সংস্থার ডার্ক স্টোর, স্কুল কিংবা সরকারি ক্যান্টিন, সবেতেই চলছে আচমকা অভিযান (সারপ্রাইজ ভিজিট)। ইতিমধ্যে ভেজাল খাবার এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগে ব্লিঙ্কইট বা ইনস্টামার্টের মতো জনপ্রিয় সংস্থার লাইসেন্সও স্থগিত করার মতো বড় পদক্ষেপ করেছে তাঁর দপ্তর।

স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে তুকারাম মুন্ডে বলেছিলেন, একটি সুস্থ দেশ গড়তে গেলে সবার আগে প্রয়োজন সুস্থ মানুষ, আর সুস্থ মানুষের জন্য চাই নিরাপদ খাবার ও ওষুধ। সেই লক্ষ্যেই মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে প্রায় ৩ হাজার দোকানে হানা দিয়ে নজির গড়েছেন তিনি। তাঁর এই আপসহীন মনোভাব ও কড়া পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংস কুড়িয়েছে, অন্যদিকে হোটেল ও রেস্তরাঁ মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *