রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ, মৃত্যু ৩২ হাজার পার! তবে ভারত কেন রয়েছে তুলনামূলক স্বস্তিতে?

রেকর্ড তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ, ৩২ হাজারের বেশি মৃত্যু! বিশ্বের বাকি অংশের তুলনায় ভারত কেন তুলনামূলক শীতল?

চলতি ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার এক চরম বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে ইউরোপজুড়ে চলছে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে ভারতের পরিস্থিতি অনেকটাই ব্যতিক্রমী। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে ইউরোপের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে চলেছে। ফ্রান্স ও স্পেনের মতো দেশগুলিতে পারদ ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

ইউরোপে চরম বিপর্যয় ও জরুরি অবস্থা: মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে অস্বাভাবিক উষ্ণ দেশের তালিকায় শীর্ষে ছিল ফ্রান্স। তীব্র গরমের জেরে কৃষিক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় নেমে এসেছে, বাধ্য হয়ে বেশ কিছু পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ রাখতে হয়েছে। এমনকী আইফেল টাওয়ার এবং ল্যুভর মিউজিয়ামের মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটনস্থলও আগেভাগে বন্ধ করে দিতে হয়েছে প্রশাসনকে। স্পেনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫.১ ডিগ্রি এবং জার্মানিতে ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৩২ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ভারত কেন ধীরে উষ্ণ হচ্ছে? তুলনামূলকভাবে ভারতের চিত্রটা ভিন্ন। ২০২৪ সালে দিল্লিতে ৫২.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হলেও ২০২৬ সালের গ্রীষ্মে দেশের কোথাও ৫০ ডিগ্রি ছোঁয়া যায়নি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের অন্যান্য মহাদেশীয় অঞ্চলের তুলনায় ভারত কিছুটা ধীরে উষ্ণ হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যাপক সেচব্যবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেচের ফলে অতিরিক্ত বাষ্পীভবন ঘটে, মাটির তাপমাত্রা কমে এবং বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ে। পাশাপাশি বায়ুদূষণের কণাগুলিও সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বড় বিপদের আশঙ্কা প্রকাশ বিজ্ঞানীদের: তবে এই স্বস্তি বা ‘সুরক্ষা’ চিরস্থায়ী নাও হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। ভূগর্ভস্থ জলের ভাণ্ডার যেভাবে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে একই মাত্রায় সেচ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তাছাড়া জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বায়ুদূষণ কমালে সেই শীতল প্রভাবও নষ্ট হতে পারে। সব মিলিয়ে, ইউরোপের বর্তমান সংকটকে শুধু দূরের ঘটনা না ভেবে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলসংকট মোকাবিলায় এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *