জল খাওয়ানোর অছিলায় ছাদে নিয়ে গিয়ে নাবালিকার সঙ্গে কুকীর্তি! কলকাতার আবাসনে যা ঘটল শুনলে রক্ত হিম হয়ে যাবে!

জল খাওয়ানোর নাম করে আবাসনের ছাদে নিয়ে গিয়ে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিবেশী প্রৌঢ়র বিরুদ্ধে!
জল খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে চার বছরের এক শিশুকে আবাসনের ছাদে নিয়ে গিয়ে তার গায়ে অবাঞ্ছিত স্পর্শ করার মতো এক মর্মান্তিক ও জঘন্য অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। কলকাতার জনবহুল গড়ফা থানা এলাকায় ঘটা এই নৃশংস ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত প্রৌঢ় পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল গড়ফার আবাসনে? পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা শিশুটি তার পরিবারের সঙ্গেই গড়ফা এলাকার একটি আবাসনে বসবাস করে। ঘটনার দিন বুধবার সকালে সে পাশের একটি ফ্ল্যাটে তার কাকার কাছে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কাকা বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ, এই সুযোগটিই নেয় ওই আবাসনেরই এক প্রতিবেশী প্রৌঢ়।
জল পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সে ছোট্ট শিশুটিকে ভুলিয়ে আবাসনের ছাদে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয় বলে অভিযোগ। এরপর শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ছাদে ছুটে যান। কিন্তু তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত প্রৌঢ় সেখান থেকে চম্পট দেয়।
তদন্তে নেমেছে পুলিশ: পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার পরই গড়ফা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসএসডি) খণ্ডবহালে উমেশ গণপত জানান, “শিশুটির গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা সবদিকটা তদন্ত করে দেখছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে, চোখের সামনে ঘটা এমন ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও মানসিক অবসাদে দিন কাটাচ্ছে শিশুটির পরিবার। এত অল্প বয়সে এমন মানসিক আঘাত শিশুর মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে আশঙ্কায় প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নেওয়ার কথাও ভাবছেন পরিবারের সদস্যরা। জনবহুল এলাকায় সুরক্ষিত আবাসন চত্বরে এমন নৃশংস ঘটনায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়েছে।