টাকার পেছনে না ছুটে সমাজসেবাই জীবনের ব্রত! বৃদ্ধাশ্রম গড়ে তুললেন এমন এক মানুষ, যাঁর কাহিনী কাঁপিয়ে দেবে মন!

বাবা-মায়ের সেবা করতে না পারার আক্ষেপে খুলে ফেললেন বৃদ্ধাশ্রম, ১২৩ জন প্রবীণকে নিয়ে গড়ে তুললেন নিজের নতুন পরিবার

আজকের এই যান্ত্রিক যুগে যেখানে মানুষ কেবল অর্থ ও নিজেদের স্বার্থের পেছনে ছুটে চলেছেন, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন উত্তরপ্রদেশের মউ জেলার সৈদপুর এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মীরাম প্রসাদ। নিজের বাবা-মায়ের সেবা করতে না পারার সুপ্ত আক্ষেপ থেকেই তিনি গড়ে তুলেছেন একটি বৃদ্ধাশ্রম। আর আজ সেই আশ্রমে ঠাঁয় পাওয়া ১২৩ জন প্রবীণ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকেই তিনি নিজের পরিবারের সদস্য বানিয়ে নিয়েছেন।

ডিগ্রি কলেজের স্বপ্ন বিসর্জন: জানা গিয়েছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে লক্ষ্মীরাম বাবুর বাবা-মা মারা যান। সেই সময়ে আর্থিক ও অন্যান্য প্রতিকূলতার কারণে তিনি তাঁদের সেভাবে সেবা করতে পারেননি। এই আক্ষেপ তাঁর মনে চিরকাল রয়ে গিয়েছিল। পেশাগতভাবে শিক্ষা জগতের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ্মীরামবাবু প্রথমে বরামদপুরে একটি বালিকা ডিগ্রি কলেজ খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই তিনি জানতে পারেন যে সমাজকল্যাণ দফতরের উদ্যোগে বৃদ্ধাশ্রম খোলার পরিকল্পনা চলছে।

ব্যাস, মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় তাঁর জীবনের লক্ষ্য। ডিগ্রি কলেজ তৈরির স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, এর চেয়ে বড় পিতৃ-মাতৃ সেবা আর কিছু হতে পারে না। ২০১৭ সালে লখনউ থেকে সমস্ত অনুমতি ও তথ্য সংগ্রহ করে তিনি শুরু করেন এই বৃদ্ধাশ্রম।

প্রচণ্ড সংগ্রাম ও বর্তমান পরিস্থিতি: প্রাথমিক পর্যায়ে এই মহৎ কাজ শুরু করতে তাঁকে তীব্র লড়াই ও কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। তবে ধীরে ধীরে মানুষের সহযোগিতায় এই আশ্রমের পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে এখানে ১২৩ জন প্রবীণ অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বসবাস করছেন। এই প্রবীণদের অনেকেই পরিবারের সদস্যদের হাতে নিগৃহীত হয়ে বা অবহেলিত হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।

সরকার নির্ধারিত অনুদান ছাড়াও লক্ষ্মীরাম বাবু নিজের আয়ের ৩০ শতাংশ অর্থ এই বৃদ্ধাশ্রমের পেছনে ব্যয় করেন। শুধু তাই নয়, বিগত বছরগুলিতে আশ্রমে প্রয়াত হওয়া বহু প্রবীণের শেষকৃত্যও নিজের হাতে সম্পন্ন করেছেন তিনি। সমাজের কোণঠাসা ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, নিখাদ ভালোবাসাই মানুষের আসল ঠিকানা।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *