ISL-এ স্যালারি ক্যাপের ফাঁকি! কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি ফাঁস, কড়া পদক্ষেপ AIFF-এর

ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল (ISL)-এ ফুটবলারদের বেতন বা স্যালারি ক্যাপ (Salary Cap) নিয়ে বিতর্ক এবং লুকোচুরি বহু পুরনো। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটা দলকে ১৬.৫ কোটি টাকার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দল গঠন করার কথা থাকলেও, সেই নিয়ম ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে বিভিন্ন ক্লাবের বিরুদ্ধে। এই জালিয়াতি রুখতে এবার একেবারে কোমর বেঁধে আসরে নামল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। দেশের ফুটবল মহলে স্বচ্ছতা ফেরাতে সরাসরি সমস্ত ক্লাবকে চিঠি পাঠিয়ে প্লেয়ারদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য চুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত বিবরণ বিস্তারিতভাবে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অধিকাংশ ক্লাবই কাগজে-কলমে স্যালারি ক্যাপের নিয়ম মেনে চললেও, আড়ালে খেলোয়াড়দের বোনাস, ইমেজ রাইটস এবং নানা ধরনের সাইড লেটার বা আনুষঙ্গিক চুক্তি করে থাকে। এর মাধ্যমে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়েও ফুটবলারদের অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়। এই অনিয়মের অভিযোগ বছরের পর বছর ধরে উঠলেও উপযুক্ত নজরদারির অভাবে অতীতে সেভাবে কঠোর পদক্ষেপ করতে দেখা যায়নি ফেডারেশনকে।
তবে এবার সেই ছবিটা বদলাতে চলেছে। ফেডারেশনের ডেপুটি জেনারেল সেক্রেটারি এম সত্যনারায়ণ সম্প্রতি সমস্ত সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একটি অত্যন্ত কড়া সার্কুলার পাঠিয়ে নতুন নির্দেশিকা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। সেখানে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, খেলোয়াড়দের মূল এমপ্লয়মেন্ট কন্ট্রাক্টের পাশাপাশি সব ধরনের সাইড লেটার ও চুক্তির নথি সিআরএস (CRS) পোর্টালে আপলোড করতেই হবে। সামান্য কোনো তথ্য গোপন রাখা বা বাদ দেওয়া হলে তা ফেডারেশনের আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে।
কীভাবে ফাঁস হলো এই কারসাজি?
খেলোয়াড় সাহিল তাভোরা বনাম জিন্দাল ফুটবল প্রাইভেট লিমিটেডের (হায়দরাবাদ এফসির মালিকানাধীন ও বর্তমানে স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি) মামলার শুনানির সময়ই মূলত এই আর্থিক অনিয়মটি প্রকাশ্যে আসে। ফেডারেশনের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি (PSC) তদন্ত করে দেখতে পায় যে, তাভোরার এফসি গোয়া এমপ্লয়মেন্ট চুক্তি সিআরএস পোর্টালে থাকলেও, তাঁর দুই বছরের ৬৫ লক্ষ টাকার ইমেজ রাইটস চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে যাওয়া হয়েছিল এবং পোর্টালে তার কোনো নথিই আপলোড করা হয়নি।
কমিটির চেয়ারপার্সন বিচারপতি রবীন্দ্র সিং তাভোরার দাবি খারিজ করে সাফ জানিয়ে দেন যে, চুক্তি সংক্রান্ত সুবিধার ক্ষেত্রে নিজেদের সুবিধে মতো কিছু নথি দেখানো এবং কিছু নথি গোপন রাখা আইনত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। মূলত লিগের দলগুলির মধ্যে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেই এই স্যালারি ক্যাপের নিয়ম তৈরি করা হয়েছে, যাতে কোনো দল একচেটিয়া আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে অন্যায় সুবিধা নিতে না পারে। চলতি ট্রান্সফার উইন্ডো থেকেই এই কড়া নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবলের অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড়সড় স্বচ্ছতা আনবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।