জানুয়ারির পর ফের সরাসরি রাশিয়া-আমেরিকা যোগাযোগ? রহস্যে ঘেরা ফ্লাইট অবতরণ নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা।

রাশিয়ায় হঠাৎ মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি পরিবহন বিমান অবতরণ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত ভিভিআইপি ঘাঁটি থেকে উড়ে আসা এই বিমানটি সরাসরি মস্কোয় পৌঁছানোয় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রহস্যের দানা বেঁধেছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-র তথ্য অনুসারে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার (C-17A Globemaster III) মডেলের পরিবহন বিমান মস্কোর ভনুকোভো বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং করে। বোয়িং গ্লোবমাস্টার মডেলের এই বিমানটির লেজে যুক্তরাষ্ট্রের রেজিস্টার্ড নম্বর ছিল। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের ডেটা বলছে, বিমানটি (ফ্লাইট নম্বর RCH4555) লাটভিয়ার রাজধানী রিগা থেকে উড্ডয়ন করে সরাসরি মস্কোতে অবতরণ করে। মস্কোতে পৌঁছানোর আগে বিমানটি আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত প্রধান সামরিক ঘাঁটি ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুস’ (ক্যাম্প স্প্রিংস) থেকে রিগায় গিয়েছিল।
ক্রেমলিনের প্রতিক্রিয়া ও গোপনীয়তার জল্পনা
এদিকে স্পর্শকাতর এই অবতরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ালেও ক্রেমলিন জানিয়েছে যে, বিমানটি সম্পর্কে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ক্রেমলিনের কোনো বৈঠক করার পরিকল্পনা নেই।
যেহেতু সি-১৭ গ্লোবমাস্টার বিমানটি মূলত বিপুল পরিমাণ সৈন্য ও সামরিক সরঞ্জাম দূরপাল্লায় পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই এর হঠাৎ মস্কো আগমন নানা জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। ‘দ্য আই পেপার’-এর তথ্য অনুসারে, সম্ভাব্য কোনো গোপন কূটনৈতিক সমঝোতা বা বন্দি বিনিময়ের বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। এর আগে ২০২৬ সালের অগাস্ট মাসে সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা রবার্ট গিলম্যানের আলোচিত মুক্তি এবং বছরের শুরুর দিকে বড় ধরনের বন্দি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছিল।
অতীতেও এমন যোগাযোগের নজির
সর্বশেষ যখন যুক্তরাষ্ট্র-রেজিস্ট্রার্ড কোনো ফ্লাইট সরাসরি ইউরোপ থেকে রাশিয়ায় এসেছিল, সেই ঘটনাটি ঘটেছিল গত জানুয়ারি মাসে। সে সময় ইউক্রেন সংকটের বিষয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভেন উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার সেখানে অবতরণ করেছিলেন। যদিও রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা বর্তমানে গভীর অচলাবস্থায় রয়েছে, তবুও এই রহস্যময় বিমান অবতরণ প্রমাণ করছে যে দুই দেশের মধ্যে কোনো না কোনো গোপন কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ এখনও খোলা থাকতে পারে।