‘ঘোর কাটছে না লোকটার!’ পডকাস্টে কোন আজব ভবিষ্যদ্বাণী শুনে পেটে খিল ধরল নেটিজেনদের?

বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কত শত ভবিষ্যদ্বাণীই তো হয়—প্রলয়, যুদ্ধ কিংবা মহাজাগতিক গ্রহণ। কিন্তু সম্প্রতি এক ভারতীয় জ্যোতিষী বা স্বঘোষিত ‘বাবা’র পডকাস্টের একটি ক্লিপ নেটদুনিয়ায় এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা দেখে কেউ হাসতে হাসতে কুপোকাত, আবার কেউ ভাবছেন লোকটা কি আক্ষরিক অর্থেই খামখেয়ালি কোনো ঘোরের মধ্যে রয়েছেন!

ভাইরাল হওয়া সেই পডকাস্টের দাবি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে নাকি এক অবিশ্বাস্য আবহাওয়া দেখা যাবে। যেখানে বৃষ্টির জলের বদলে আকাশ থেকে ঝরে পড়বে আস্ত জীবন্ত হাতি এবং ঘোড়া! আর এই অবাস্তব দাবি ঘিরেই এখন সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে চলছে চরম ট্রোল ও হাসির রোল।

ইন্টারনেটে এই ক্লিপটি ছড়িয়ে পড়তেই ইউটিউব ও ফেসবুকের কমেন্ট বক্স ভেসে গেছে নেটিজেনদের মজার মন্তব্যে। মিমাররা মাঠে নেমে পড়েছেন জমিয়ে। এক নেটিজেন ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “আকাশ থেকে হাতি পড়লে আমরা মাথা বাঁচাতে কোথায় ছাতা খুঁজব ভাই?” আরেকজন লিখেছেন, “কী মজা, যদি ঘোড়ার বৃষ্টি হয়, তবে তো ফ্রিতেই চড়ার জন্তু পেয়ে যাব!” অনেকেই আবার পেটে ব্যথা হয়ে যাওয়ার জোগাড়, কারণ এমন আজব কথা তাঁরা জীবনে শোনেননি। কেউ কেউ অবশ্য ভেবেছিলেন হয়তো এটি রূপক অর্থে বলা হয়েছে, কিন্তু পডকাস্টের সুর শুনে স্পষ্ট বোঝা গেছে ওই ‘বাবা’ একেবারে আক্ষরিক অর্থেই নিজের দাবিতে অনড়!

বিজ্ঞান কী বলছে? বিজ্ঞানের ভাষায় মাছ, ব্যাঙ, পোকা বা পাখির মতো ছোট ছোট জলচর বা ক্ষুদ্র প্রাণী আকাশ থেকে পড়ার ঘটনাকে ‘অ্যানিমাল রেইন’ (Animal Rain) বলা হয়। প্রবল ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো বা শক্তিশালী জলের স্রোত যখন কোনো জলাশয় থেকে এজাতীয় ছোট ও হালকা প্রাণীদের উপরে টেনে নেয়, তখন বায়ুমণ্ডলের টানে তা অনেক দূরে বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরে পড়ে।

কিন্তু টন টন ওজনের হাতি বা বিশাল আকৃতির ঘোড়ার মতো ভারী স্তন্যপায়ী প্রাণী আকাশ থেকে পড়ার ঘটনা বৈজ্ঞানিক দিক থেকে সম্পূর্ণ অসম্ভব ও অবাস্তব! আর ঠিক এই কারণেই মানুষ বিষয়টিকে স্রেফ একটা আজব জোক বা বিনোদনের খোরাক হিসেবে লুফে নিয়েছে। প্রলয় বা ধ্বংসের আশঙ্কায় যেখানে মানুষের বুক কাঁপবার কথা, সেখানে এই আজব হাতি-ঘোড়ার ‘বৃষ্টি’র তত্ত্ব সকলকে হাসাতে বাধ্য করেছে। ভারতে আজকাল পডকাস্ট এবং নানা স্বঘোষিত ‘বাবা’দের রমরমা বাজারে এমন আজগুবি দাবির ছড়াছড়ি লেগেই থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *