আসছে ২০২৭ সালের জনগণনা; ফর্ম থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হলো ‘ভিক্ষুক’ বিভাগ, জেনে নিন নেপথ্যের আসল কারণ!

আসন্ন ২০২৭ সালের জনগণনায় এক বড়সড় পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের জনগণনা থেকে চিরতরে বাদ দেওয়া হচ্ছে ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ বিভাগটি। অর্থাৎ, বিগত বছরগুলির মতো এবার আর আলাদাভাবে ভিক্ষুকদের গণনা করা হবে না। বিগত ২০১১ সালের জনগণনার হিসাব অনুযায়ী, এই তালিকায় দেশের মধ্যে শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ। তবে নানা সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে এবার এই ক্যাটেগরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এতদিন পর্যন্ত শিক্ষার্থী, পেনশনভোগী এবং গৃহবধূদের পাশাপাশি ‘নন-ইকোনমিক অ্যাক্টিভিটি’ বা অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়দের তালিকায় রাখা হতো ভিক্ষুকদের। কিন্তু এবার এই বিভাগটি বাদ যাওয়ায় তাঁরা সরাসরি ‘অন্যান্য’ বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, সমাজে ‘কলঙ্কিত’ হওয়ার আশঙ্কায় বহু মানুষ নিজেদের সমীক্ষায় ভিক্ষুক হিসেবে পরিচয় দিতে কুণ্ঠাবোধ করতেন, যার ফলে সরকারি তথ্যে বিকৃতি ঘটত। তাছাড়া পূর্ববর্তী জনগণনাগুলিতে এই বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে সারা দেশের মধ্যে ভিক্ষুকের সংখ্যার নিরিখে সবার উপরে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে ৮১ হাজার ২৪৪ জন এই শ্রেণিতে নথিভুক্ত হয়েছিলেন। এরপরেই তালিকায় ছিল উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার ও মধ্যপ্রদেশের নাম। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের পরিসংখ্যানেও এই বিভাগে লক্ষাধিক মানুষের নাম দেখা গিয়েছিল। নতুন নিয়মে এই বিভাগ বাদ পড়ায় এখন থেকে বয়স, রাজ্যভিত্তিক সংখ্যা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার মতো তথ্য আর আলাদাভাবে জানা যাবে না। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের জনগণনার প্রশ্নমালায় পরিযানের কারণ হিসেবে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’, বাবা-মায়ের জন্ম তারিখ ও স্থান এবং আধার বা ভোটার কার্ডের মতো ডিজিটাল তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমাজের প্রকৃত আর্থ-সামাজিক চিত্র বুঝতে এখন থেকে জনগণনার তথ্যের পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন কল্যাণমূলক প্রকল্পের তথ্যের ওপর বেশি ভরসা রাখা হবে।

প্রধান হাইলাইটস:

  • জনগণনায় বড় বদল: ২০২৭ সালের জনগণনার ফর্ম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘ভিক্ষুক এবং ভবঘুরে’ বিভাগটিকে।

  • তালিকায় শীর্ষে ছিল পশ্চিমবঙ্গ: ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী, দেশে ভিক্ষুকের সংখ্যার দিক থেকে প্রথম স্থানে ছিল পশ্চিমবঙ্গ (৮১,২৪৪ জন)।

  • বাদ দেওয়ার কারণ: সামাজিক কুসংস্কার ও পরিচয়ের লজ্জার কারণে বহু মানুষ সঠিক তথ্য না দেওয়ায় এবং পূর্ববর্তী তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • প্রশ্নমালায় নতুন সংযোজন: এবারের জনগণনায় আধার, ভোটার কার্ডের ডিজিটাল তথ্য এবং পরিযানের কারণ হিসেবে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’-এর মতো বিষয়গুলি যুক্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *