পার্কস্ট্রিটে ‘দুধ গরম’-করা মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে, বড় প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক নাটকীয় মোড় দেখা যাচ্ছে। কিছুদিন আগেই পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের একটি পরিদর্শন ঘিরে রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সক্রিয় মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল শহরজুড়ে নানা অনিয়ম হাতেনাতে ধরতে দিনভর পরিদর্শনে বের হচ্ছেন। সেইমতো গত শনিবার তিনি কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা পার্কস্ট্রিটে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানেই ফুটপাতের ওপর এক মহিলাকে শিশুর জন্য দুধ গরম করতে দেখে মেজাজ হারান মন্ত্রী। ফুটপাতে কেন এভাবে সংসার পাতা হয়েছে এবং কেন তারা বাড়িতে থাকছেন না, এই প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এমনকী ফুটপাতে ঝুলতে থাকা শিশুর জামাকাপড়ও সরিয়ে দেন অগ্নিমিত্রা পাল। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে এবং বিরোধীরা নতুন সরকারকে তীব্র আক্রমণ করতে শুরু করে।
যদিও এই তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন যে বিরোধীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কুম্ভীরাশ্রু ফেলছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ঘটনার দিন কেউ ওই শিশুটির জন্য একবাটি দুধ নিয়ে এগিয়ে আসেনি, বরং সবাই রাজনৈতিক রুটি সেঁকেছে। কংগ্রেস, সিপিআইএম থেকে শুরু করে বিগত তৃণমূল সরকারের দিকে আঙুল তুলে তিনি অভিযোগ করেন যে দীর্ঘ দেড়-দু’দশক ধরে সাধারণ মানুষকে শুধু ঠকানো হয়েছে এবং টাকা নিয়ে ফুটপাতে বেআইনি হকার বসানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সামনে রেখে তিনি স্পষ্ট জানান যে ফুটপাত হকারদের বা বড়লোকদের নয়, তা সাধারণ পথচারীদের চলাচলের জন্য এবং পথ পরিষ্কার রাখাই তাঁদের সরকারের মূল লক্ষ্য।
তবে এই বিতর্কের জল বেশিদূর গড়াতে না দিয়ে এবং বিরোধীদের সমালোচনার সুযোগ পুরোপুরি কেড়ে নিয়ে এক জাদুকরি মাস্টারস্টোক দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ‘জনতার দরবার’-এ হাজির হন সেই মহিলা, সীতাদেবী। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। শুভেন্দু অভিযোগ করেন যে বিগত ১৫ বছর ধরে ওই মহিলার কেউ খোঁজ নেয়নি, কিন্তু এখন বিরোধীরা লোক পাঠিয়ে তাঁকে টাকা দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে নিন্দা করার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন যে ওই মহিলার আশ্রয়ের সমস্ত ব্যবস্থা সরকার করে দেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এক পদক্ষেপে বিরোধীদের সমস্ত অস্ত্র কেড়ে নিয়ে নিজের সরকারের মানবিক মুখ সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী।