ছয় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় ইন্টারনেট টিকিয়ে রাখতে সঙ্গে নিলেন তিনটি সিম কার্ড আর দুটি আলাদা ফোন! দূরপাল্লার কাজের এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা শুনলে অবাক হবেন।

চলন্ত ট্রেনে বসে অফিসের কাজ করা এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে যুক্ত থাকা অনেকের কাছেই অসম্ভব বলে মনে হয়। কিন্তু সমস্ত জল্পনা ও ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে এক যুবতী দেখিয়েছেন যে, সঠিক প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা থাকলে ট্রেনের কামরায় বসেই সমস্ত মিটিং এবং জরুরি কাজ অনায়াসে সেরে ফেলা সম্ভব। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে মাইসোরের দিকে যাওয়ার সময় তাঁর ছয় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রার এই অভিনব অভিজ্ঞতার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন অরুণিকা যাদব।

ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে অরুণিকা জানিয়েছেন যে, ট্রেনে বসে দূর থেকে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা। নেটওয়ার্ক সমস্যা এড়াতে তিনি অভিনব এক উপায় বের করেন। ল্যাপটপে ইন্টারনেট দেওয়ার জন্য তিনি একটি আলাদা ফোন ব্যবহার করার পাশাপাশি এয়ারটেল, জিও এবং বিএসএনএল—এই তিনটি ভিন্ন নেটওয়ার্ক অপারেটরের সিম কার্ড সঙ্গে রেখেছিলেন। তাঁর মতে, একটি নেটওয়ার্ক চলে গেলে অন্যটি যাতে ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে, সেই উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা। এছাড়া মূল ফোনের ব্যাটারি সুরক্ষিত রাখতে টেথারিংয়ের মাধ্যমে ল্যাপটপ সংযুক্ত করা এবং কাজের সুরক্ষায় ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করার মতো কৌশলও তিনি কাজে লাগান। যাত্রাপথে অনায়াসে খাবার অর্ডার করার সুবিধার কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, জানালার ধারের একটি সিট আর এই গ্যাজেটের সেটআপ নিয়েই তাঁর ছয় ঘণ্টার কর্মদিবস অত্যন্ত সফলভাবে কেটেছে।

সংবাদের মূল হাইলাইটস
অনন্য গ্যাজেট সেটআপ: মাইসোর যাওয়ার পথে ছয় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় একটানা কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য অরুণিকা যাদব একটি ল্যাপটপ, দুটি আলাদা ফোন এবং তিনটি ভিন্ন কোম্পানির সিম কার্ড ব্যবহার করেছেন।

নেটওয়ার্ক ব্যাকআপ: ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তিনি একযোগে এয়ারটেল, জিও এবং বিএসএনএল-এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছিলেন।

ব্যাটারি ও নিরাপত্তা সুরক্ষা: মূল ফোনের চার্জ বাঁচানোর জন্য আলাদা ফোন থেকে ল্যাপটপে ইন্টারনেট দেওয়া এবং কাজের জন্য ভিপিএন ব্যবহারের মতো টেকনিক্যাল কৌশল অবলম্বন করেন তিনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চা: ট্রেনের কামরায় বসে দূরপাল্লার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার এই অভিনব অভিজ্ঞতা ও ভিডিওটি বর্তমানে ইন্টারনেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *