পর্দায় আসবে না কোনো নতুন ছবি! ১ সেপ্টেম্বর থেকে কি তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে তামিল সিনেমা?

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়তে পারে তামিল চলচ্চিত্র জগৎ। প্রেক্ষাগৃহ মালিক ও পরিবেশকদের নতুন ওটিটি রিলিজের শর্তের প্রতিবাদে তামিল ফিল্ম প্রডিউসার্স কাউন্সিল (TFPC) এবং তামিল ফিল্ম অ্যাক্টিভ প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন (TFAPA) যৌথভাবে গোটা তামিলনাড়ুতে সমস্ত নতুন ছবির মুক্তি, শুটিং এবং পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে।
ওটিটি রিলিজ উইন্ডো নিয়ে মূল বিতর্ক কী?
এই সমস্ত বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে সিনেমা মুক্তির সময়সীমা বা উইন্ডো (OTT Release Window)। তামিলনাড়ু ফিল্ম ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন ফেডারেশন এবং তামিলনাড়ু থিয়েটার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে প্রেক্ষাগৃহগুলি কোনো নতুন তামিল ছবি প্রদর্শন করবে না, যদি না প্রযোজক লিখিতভাবে এই মর্মে নিশ্চয়তা দেন যে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অন্তত আট সপ্তাহ বা দুই মাস পর ওটিটিতে আসবে।
এই বিষয়ে প্রখ্যাত ট্রেড অ্যানালিস্ট রমেশ বালার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বর্তমান ওটিটি উইন্ডো চার সপ্তাহের কাছাকাছি থাকায় দর্শকরা প্রেক্ষাগৃহে আসার চেয়ে ঘরে বসেই দুই মাস অপেক্ষা করার পথ বেছে নিচ্ছেন। হল মালিকদের দাবি, এই উইন্ডো আট সপ্তাহে উন্নীত করলে দর্শকসংখ্যা আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরবে, যা অনেকটা বলিউড প্রযোজকদের নীতি অনুসরণ করেই করা হচ্ছে।
প্রযোজক বনাম হল মালিকদের যুক্তি
অন্যদিকে, প্রযোজকদের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। ওটিটি ডিল বা স্বত্ব বিক্রির মাধ্যমে নির্মাতারা একটি নিশ্চিত ও বড় অঙ্কের রাজস্ব পেয়ে থাকেন। যেখানে চার সপ্তাহের উইন্ডোয় ৫০ কোটি টাকা আয় হতে পারে, সেখানে আট সপ্তাহের শর্তে সেই অঙ্ক নেমে ২৫ কোটিতে ঠেকতে পারে। তাছাড়া বক্স অফিসে ছবি ফ্লপ হওয়ার ঝুঁকি সবসময়ই থেকে যায়, ফলে প্রযোজকরা তাদের এই নিশ্চিত ওটিটি আয় সহজে হারাতে নারাজ।
রমেশ বালা জানিয়েছেন, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা বা আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধান না মিললে কিংবা রাজ্য সরকার এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করলে ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই ধর্মঘট কার্যকর হতে পারে। এর ফলে ‘সর্দার ২’ বা ‘ডেমোন্টে কলনি ৩’-এর মতো আসন্ন বড় বাজেটের ছবিগুলির মুক্তি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।