ডাস্টার-চক ছেড়ে পটচিত্র আর জাপানি প্রযুক্তিতে ক্লাস! জাতীয় শিক্ষক সম্মানে ভূষিত ঝাড়গ্রামের এই মাস্টারমশাই কে?

গতানুগতিক চার দেওয়ালের বন্দিদশা এবং পুঁথিগত বিদ্যার গণ্ডি পেরিয়ে শিক্ষাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। চক-ডাস্টারের গতানুগতিক পাঠদান নয়, বরং আঞ্চলিক ভাষা, লোকসংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির অপূর্ব মেলবন্ধনে পাঠদান করে এবার বিরল নজির গড়লেন ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম গভর্নমেন্ট মডেল স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক শান্তনু পাত্র। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’ গ্রহণ করবেন তিনি। এ বছর সারা দেশ থেকে নির্বাচিত ৪৮ জন স্বনামধন্য শিক্ষকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এই বাংলার শিক্ষক।

ছকভাঙা শিক্ষাদানের অভিনব রূপ

হুগলির তারকেশ্বরের বাসিন্দা শান্তনু ২০১৭ সাল থেকে ঝাড়গ্রামের এই প্রত্যন্ত স্কুলে কর্মরত। বইয়ের কঠিন বিষয়গুলোকে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে সহজলভ্য করতে তিনি বেছে নিয়েছেন এক অভিনব পথ।

  • প্রকৃতির কোলে হাতে-কলমে শিক্ষা: পরিবেশ রক্ষা, ভূমিক্ষয় রোধ কিংবা বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পাঠ দিতে পড়ুয়াদের সোজা নিয়ে যান প্রকৃতির মাঝে। ঐতিহাসিক স্থাপত্য বা মন্দিরের গঠনপ্রণালী মাঠে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে বুঝিয়ে তার ওপর পরীক্ষাও নেন তিনি।

  • লোকসংস্কৃতির ছোঁয়া: পটচিত্র, ঝুমুর ও বাহা গানের মতো লোকসংস্কৃতির মাধ্যমকে ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়গুলো জলের মতো সহজ করে তুলেছেন তিনি।

  • ডিজিটাল হাব ও আন্তর্জাতিক সংযোগ: স্কুলে গড়ে তুলেছেন ‘ডিজিটাল হাব’, ডিসকাশন প্ল্যাটফর্ম এবং ক্রিয়েশন সেন্টার। এর মাধ্যমেই জাপানি, অসম ও গুজরাটের পড়ুয়াদের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের সুযোগ করে দিয়েছেন ঝাড়গ্রামের পড়ুয়াদের। পাশাপাশি বাবুই ঘাস, তালপাতা ও জৈব সার উৎপাদনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছেন।

আবেগপ্রবণ শিক্ষক ও গর্বিত জেলা

জাতীয় স্তরে এই স্বীকৃতির খবর পাওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শান্তনু বাবু। তাঁর কথায়, “এই পুরস্কারের বিষয়ে আমার কোনও প্রত্যাশা ছিল না। যখন প্রথম শুনলাম, তখন শুধু চোখ দিয়ে জল বেরিয়েছিল। প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষা নিয়ে ভাবনাকে যখন স্বীকৃতি দেওয়া হয়, তা আবেগ-আপ্লুত করে তোলে।” এমনকি, পুরস্কারের সমস্ত অর্থ তিনি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রয়োজনেই খরচ করবেন বলে জানিয়েছেন।

শান্তনু স্যরের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে গোটা স্কুল এবং ঝাড়গ্রাম জেলা। সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, এই অর্জন কেবল স্কুলের নয়, সমগ্র জেলার গৌরব। অন্যদিকে, প্রিয় স্যরের এমন সাফল্যে যারপরনাই খুশি পড়ুয়ারাও।

আপনার কি মনে হয়, শান্তনু স্যরের মতো আধুনিক ও সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতি রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে চালু করা উচিত?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *