সরকার নির্ধারিত মজুরি মিলছে না! দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরীর ইস্পাত কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের বিরাট বিক্ষোভ

পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের সালানপুর ব্লকের দেন্দুয়া-কল্যাণেশ্বরী শিল্পাঞ্চলে চরম শ্রমিক অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। সরকারি নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি না দেওয়ার অভিযোগে একটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার মূল গেটের সামনে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলেও, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজে ফিরতে নারাজ শ্রমিকেরা।

কম মজুরি ও বকেয়া পাওনার অভিযোগ

শ্রমিকদের অভিযোগ, সম্প্রতি রাজ্য সরকারের শ্রম দফতর, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সেই অনুযায়ী শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের দৈনিক ন্যূনতম মজুরি ৩৮৬ টাকা ধার্য করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, বর্তমান কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ অমান্য করে এখনও পুরনো ৩২৩ টাকা হিসেবেই মজুরি মিটিয়ে চলেছে। নতুন হারে বেতন এবং পূর্বের বকেয়া পাওনার দাবিতে একাধিকবার আলোচনা করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। বাধ্য হয়েই তাই উৎপাদন বন্ধ রেখে কারখানার গেটে অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন তাঁরা।

নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ও ক্ষোভ

শুধু আর্থিক বঞ্চনা নয়, কারখানার অন্দরে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। শ্রমিক নেতা অমরনাথ মাহাতোর অভিযোগ, কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা রয়েছে। দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু হলে ১৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের কথা বলা হলেও তাঁর প্রশ্ন, “টাকার বিনিময়ে কি একটি মানুষের জীবনের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব?” নিরাপত্তার ফাঁকফোকর নিয়ে বারবার অভিযোগ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি তাঁদের।

সমাধান সূত্রের অপেক্ষা

এদিন বিক্ষোভের খবর পেয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা গেটে এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনো স্থায়ী সমাধানসূত্র বের হয়নি। শ্রমিকদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন না তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শ্রমিক আন্দোলন ও শিল্পাঞ্চলের এই ধরনের টাটকা আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন আমাদের পাতায়।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *