বন্দে মাতরম বিতর্ক তুঙ্গে! কংগ্রেসকে ‘নতুন মুসলিম লীগ’ বলে আক্রমণ বিজেপির সভাপতি নীতিন নবিনের

জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা মেনে নেওয়া হবে না! বন্দে মাতরমের দুই স্তবক নীতি নিয়ে কংগ্রেসকে তুলোধনা বিজেপির

নিজস্ব সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: রাজনৈতিক সুবিধা বা তোষণের খাতিরে জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননা এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে সীমিত রাখার কংগ্রেসী সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। ১৯৩৭ সালের কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (CWC) সিদ্ধান্ত পুনর্ব্যক্ত করে দলীয় অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরমের কেবল প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শনিবার সুর চড়িয়েছে শাসক দল। এই ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে বড়সড় প্রচার কর্মসূচি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পদ্মশিবির।

কী বলছে বিজেপি?

শনিবার বিজেপির নতুন পদাধিকারীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাশ হয়। বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। পরে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘এক্স’-এ সেই প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। নীতিন নবীন অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সুবিধা ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির খাতিরে দেশবাসীর আত্মসম্মানকে বারবার বলি দিচ্ছে কংগ্রেস। এমনকি তোষণের এই নীতির কারণে কংগ্রেস বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘নতুন মুসলিম লীগ’-এর রূপ নিয়েছে বলেও তোপ দাগেন তিনি।

দেশব্যাপী প্রচারের ডাক: বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ ইতিহাস, গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য এবং এর পিছনের সংগ্রাম তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে দেশব্যাপী প্রচার কর্মসূচি হাতে নেবে দল।

বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?

দিনকয়েক আগে দলের একটি অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম গান সম্পূর্ণ গাওয়া এবং তার মর্যাদাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তরজা শুরু হয়। এর পরেই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, দলের সমস্ত অনুষ্ঠানে ১৯৩৭ সালের সিদ্ধান্ত মেনে বন্দে মাতরমের কেবল প্রথম দুটি স্তবকই গাওয়া হবে। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহেরু ও সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সেইসময়ের নেওয়া সিদ্ধান্তকেই দল আঁকড়ে থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দেন কংগ্রেস নেতৃত্ব। আর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই আসরে নামে বিজেপি, যা বর্তমানে জাতীয় রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *