এবার এয়ারপড কানে থাকতেই ছবি তুলতে পারবেন, জেনেনিন কত দাম?

গান শোনা কিংবা ফোনে কথা বলার দিন কি তবে এবার শেষ হতে চলেছে? প্রযুক্তি দুনিয়ায় কান পাতলে এখন একটাই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আর তা হল, খুব শীঘ্রই কেবল অডিও শোনার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং চারপাশের পরিবেশ ও বস্তু চেনার জন্য অত্যাধুনিক এয়ারপডস নিয়ে আসতে চলেছে টেক জায়ান্ট অ্যাপল। সংস্থার এই নতুন এআই ওয়্যারেবল ডিভাইসটি লঞ্চ হলে প্রযুক্তি দুনিয়ায় এক বিরাট বিপ্লব ঘটে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অ্যাপলের এই নতুন এয়ারপডসের সবচেয়ে বড় এবং চমকপ্রদ পরিবর্তন হতে চলেছে এতে একটি ছোট ক্যামেরা সেন্সর সংযোজন। তবে সাধারণ স্মার্টফোনের ক্যামেরার মতো হাই-কোয়ালিটি ছবি বা ভিডিও তোলা এর মূল কাজ হবে না। বরং এই কম রেজল্যুশনের ক্যামেরাটি ব্যবহারকারীর চারপাশের পরিবেশ এবং বিভিন্ন বস্তু ক্রমাগত স্ক্যান করতে থাকবে। সেই ভিজ্যুয়াল ডেটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অ্যাপলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই এবং সিরি ব্যবহারকারীর বিভিন্ন প্রশ্নের নিখুঁত উত্তর দিতে সক্ষম হবে। অর্থাৎ সামনে থাকা কোনো বই, কোনো নতুন পণ্য বা যেকোনো অচেনা জিনিস সম্পর্কে জানতে চাইলে, এআই নিমেষেই সেটি চিনে নিয়ে সমস্ত তথ্য প্রদান করবে।
সম্প্রতি ম্যাকওএস টাহো ২৬.৭-এর একটি বেটা সংস্করণের ডেটা ঘাঁটতেই এই ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডসের সুনির্দিষ্ট উল্লেখ প্রকাশ্যে আসে। সেখানে একটি ডেমো ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি একটি বই এয়ারপডসের সামনে ধরতেই ভিজ্যুয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে চারপাশের জিনিস সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য জানা বা তা সংরক্ষণ করার কাজ চলছে। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে টেক প্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা চরমে পৌঁছয়। অনেকেই আশা করেছিলেন, হয়তো চলতি বছরের শেষের দিকে আসন্ন আইফোন লঞ্চ ইভেন্টেই এই তাক লাগানো গ্যাজেটটি জনসমক্ষে আনা হবে।
তবে প্রযুক্তি দুনিয়ার নির্ভরযোগ্য সূত্র তথা মার্ক গুরম্যানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন সেই আশায় সামান্য জল ঢেলেছে। জানা গিয়েছে, ফাঁস হওয়া ভিডিওর গুঞ্জন সত্যি হলেও অ্যাপলের প্রাথমিক পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্যামেরাযুক্ত এই এআই এয়ারপডসের সম্ভাব্য বাণিজ্যিক উন্মোচনের সময় ২০২৭ সালই ধার্য করা হয়েছে। মূলত চলতি বছরের শুরু থেকেই অ্যাপলের অভ্যন্তরীণ ল্যাবে কর্মচারীদের মধ্যে এর উন্নত পর্যায়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল। কিন্তু উৎপাদন প্রক্রিয়ার দিকে এগোনোর সময় সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সফটওয়্যার সংক্রান্ত কিছু অপ্রত্যাশিত জটিলতার মুখোমুখি হয় মার্কিন এই বহুজাতিক সংস্থা। আর সেই কারণেই এই প্রজেক্টের লঞ্চের সময়সীমা কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যাচ্ছে যে, অ্যাপল একই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে দুটি ভিন্ন এয়ারপডস মডেল বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম মডেলটির কোডনেম রাখা হয়েছে বি৭৯০, যা মূলত বর্তমানের জনপ্রিয় এয়ারপড প্রো ৩-এর একটি উন্নত ও পরিবর্তিত সংস্করণ হতে পারে। ফাঁস হওয়া ডেমো ভিডিওতে যে ধরনের এয়ারপড দেখা গিয়েছে, তা এই মডেলের সঙ্গেই মিলে যায়। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মডেলটির কোডনেম বি৭৯৮, যাতে ডিজাইনের দিক থেকে আরও বড় ধরনের বদল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মডেলটিতে ক্যামেরার পাশাপাশি আরও একাধিক নতুন সেন্সর যুক্ত করা হতে পারে।
এই পুরো প্রযুক্তির সবচেয়ে আকর্ষক এবং বিপ্লবাত্মক দিকটি হতে চলেছে সিরির সঙ্গে এর গভীর সমন্বয়। এয়ারপডসের ক্যামেরার সাহায্যে সংগৃহীত চারপাশের পরিবেশের তথ্য ব্যবহার করে এআই ব্যবহারকারীর প্রতিটি জিজ্ঞাসার দ্রুত জবাব দেবে। যেমন—সামনে কোন বস্তু রয়েছে, কোন বিশেষ স্থান বা দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, কিংবা কোনো নির্দিষ্ট বস্তু সম্পর্কে পরে মনে করিয়ে দিতে হবে কি না, ইত্যাদি নানা কাজ এআই নিমিষেই করে দেবে। যদিও এই সমস্ত সুবিধা এবং ফিচারগুলি এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট এবং গুঞ্জনের ওপরই নির্ভরশীল, কারণ অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে এখনও মুখ খোলে নি।
সব মিলিয়ে বলা চলে, ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস কেবল সাধারণ কোনো নতুন ওয়্যারলেস ইয়ারবাড নয়, বরং এটি অ্যাপলের দীর্ঘমেয়াদী এআই হার্ডওয়্যার কৌশলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। এর পাশাপাশি স্মার্ট গ্লাসসহ আরও কিছু ক্যামেরাভিত্তিক ওয়্যারেবল ডিভাইস নিয়েও কাজ চালাচ্ছে টিম কুকের সংস্থা। শেষ পর্যন্ত ২০২৭ সালে যদি এই ক্যামেরাযুক্ত এয়ারপডস সত্যি সত্যি আলোর মুখ দেখে, তবে তা মানবজাতিকে এক সম্পূর্ণ নতুন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।