যাদবপুরে ফের ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! এসএফআই-এবিভিপি সংঘর্ষে নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম ধ্বংস, তোপ দিলীপ ঘোষের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের একবার ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ক্যাম্পাস। এসএফআই (SFI) ও এবিভিপি (ABVP)-র মধ্যে এই সংঘর্ষের জেরে কেবল রাজনীতির উত্তাপ বাড়ল না, ধ্বংস হলো জাতীয় গর্বের প্রতীকও। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’-এর হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ও অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও কেন ‘জিবি মিটিং’ ডাকা হলো, এই প্রশ্ন তুলে প্রতিবাদ জানাতে যান এবিভিপি সমর্থকরা। সেই সময় এসএফআই-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছেন এবিভিপি কর্মীরা। তাদের আরও অভিযোগ, এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে তাদের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। আহত দুই এবিভিপি সমর্থককে চিকিৎসার জন্য কেপিসি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে যাদবপুরের বিধায়িকা শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা যাদবপুর থানায় এসে বিক্ষোভ দেখান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে এসএফআই-এর পোস্টার ও ব্যানার জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। মুছে ফেলা হয় দেওয়াল লিখন।
ধ্বংস হলো নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম
এই সংঘর্ষের চরম মাসুল গুনল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে ভেঙে যায় বিখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর হাতে তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বের প্রতীক ‘এমব্লেম’। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাজেশ্বর সিংহ ব্যথিত হয়ে জানান, “এই এমব্লেমটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষা। আজ তাকে পায়ের নিচে মাড়িয়ে ভেঙে ফেলা হলো।”
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
এই ইস্যুতে এদিন রীতিমতো গর্জে উঠেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “পরিবর্তন আসছে, আরও অনেক কিছু হবে। ৬ মাস অপেক্ষা করুন। তৃণমূল কংগ্রেস এদের (বামপন্থীদের) পুষে রেখেছিল। আমাদের লোকেরা অতীতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল। আমি তখনও বলেছিলাম, দেশবিরোধী কাজ চললে সহ্য করা হবে না। আবারও যদি দেশবিরোধী স্লোগান ওঠে, তবে আবারও সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে।”
আইনি লড়াই
যাদবপুরের এই অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে এবার মামলা পৌঁছেছে কলকাতা হাইকোর্টে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সাম্প্রতিক এই সংঘাতকে একটি বিচারাধীন মামলার সাথে জুড়ে দিয়ে দ্রুত শুনানির জন্য ভারপ্রাপ্ত বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এক আইনজীবী।
সব মিলিয়ে, যাদবপুর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত। প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং আইনি লড়াইয়ের মুখে দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ কবে ফিরবে, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।