NEET ব্যবস্থা ‘ভেঙে ফেলা অসম্ভব’! সুপ্রিম কোর্টে বড় দাবি কেন্দ্রের, প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কোন ছক?

দেশজুড়ে বহুল আলোচিত ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট বা NEET-এর পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ‘ফুলপ্রুফ’ এবং তা ভাঙা অত্যন্ত কঠিন বলে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দাবি জানাল কেন্দ্র। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তার বিশদ বিবরণও আদালতে তুলে ধরা হয়।

এদিন সুপ্রিম কোর্টে NEET-UG 2026 প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি ছিল। শুনানিকালে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, প্রশ্নপত্র বহনকারী প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকে, যার মাধ্যমে গাড়ির সামান্য নড়াচড়াও নিখুঁতভাবে রেকর্ড করা হয়। পাশাপাশি, প্রশ্নব্যাঙ্ক তৈরির কাজে একাধিক মডারেটর যুক্ত থাকেন এবং পরীক্ষার দিন একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কোন প্রশ্নগুলি মূল প্রশ্নপত্রে থাকবে, তা তাঁদের কারও পক্ষেই আগে থেকে জানা সম্ভব হয় না।

পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ করার নির্দেশ আদালতের

কেন্দ্রের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থাটিকে আরও বেশি ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ করার উপর তীব্র জোর দেওয়া হয়। নিরাপদ ও গোপনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ, প্রশ্নপত্র সিল করার জন্য একটি স্থায়ী কমিটি গঠন এবং সার্বিক নিরাপত্তা তদারকির জন্য ডিরেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ করার প্রস্তাব দিয়েছে আদালত।

পাশাপাশি, রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশগুলি রূপায়ণে কী কী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা বিস্তারিত জানিয়ে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি নতুন হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা NTA-র পরিকাঠামো, কর্মী সংকট এবং প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা নিয়েও যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আদালত। আগামী তিন সপ্তাহ পর এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালতের নজরে অতীতের ছাত্র বিক্ষোভ ও সংস্কারের দাবি

উল্লেখ্য, এর আগে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। রাজধানীর দিল্লিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন, অনশন এবং সংসদ অভিযানের মতো কর্মসূচিও পালিত হয়। তৎকালীন সময়ে বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষ মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সার্বিক পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। পরবর্তীতে সরকারের তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া বিশেষ করে মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাসের পর সেই আন্দোলন শান্ত হয়। তবে আইনি লড়াই এবং কাঠামোগত সংস্কারের দাবিতে এখনও সরগরম দেশের শিক্ষামহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *