শ্রাবণী মেলায় রেকর্ড ভাঙল ভক্তদের ঢল! প্রায় ২০ লক্ষ পুণ্যার্থী সামলে তাক লাগাল পূর্ব রেল

শ্রাবণী মেলা ২০২৬-এ পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনের অধীন চার গুরুত্বপূর্ণ তীর্থকেন্দ্র—জসিডি, বাসুকীনাথ, দেওঘর ও বৈদ্যনাথধামে ভক্তদের বিশাল সমাগম দেখা গেল। গত ৩০ জুলাই থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত চলা এই মেলায় এই চার কেন্দ্রে মোট ১৯,৮৬,২৯৪ জন তীর্থযাত্রী যাতায়াত করেছেন। গত বছরের ১৮.২১ লক্ষ যাত্রীর তুলনায় এ বছর যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে ৯.০২ শতাংশ।
কোন কেন্দ্রে কত যাত্রীবৃদ্ধি?
চারটি কেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রীবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে বাসুকীনাথে—৩৭.৮৯ শতাংশ। পাশাপাশি, দেওঘরে তীর্থযাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে ২১.৩১ শতাংশ। তবে মোট যাত্রীসংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে বেশি ভক্ত যাতায়াত করেছেন জসিডি স্টেশন দিয়ে, যেখানে মোট ১২,২৭,৮৩৬ জন তীর্থযাত্রীর যাতায়াত নথিভুক্ত হয়েছে।
শ্রাবণী সোমবারের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন—১০ ও ১৭ অগস্ট বিভিন্ন স্টেশনে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এই পর্বে ১৭ অগস্ট একাই জসিডিতে সর্বাধিক ৯২,৮৯৮ জন যাত্রীর সমাগম হয়েছিল।
২৪ ঘণ্টা টিকিট পরিষেবা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
তীর্থযাত্রীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং টিকিটের জন্য অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে জসিডি, দেওঘর, বাসুকীনাথ ও বৈদ্যনাথধাম—চারটি কেন্দ্রেই ২৪ ঘণ্টা টিকিট বুকিং পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল। এছাড়াও, প্রচণ্ড ভিড় সামলাতে শ্রাবণী মেলার প্যান্ডেলের আয়তন প্রায় ৮৭ শতাংশ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার বর্গফুট থেকে ১ লক্ষ ২৯ হাজার বর্গফুট করা হয়। মেঝেতে সহজে পরিষ্কারযোগ্য পিভিসি ভিনাইল শিট বিছানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত স্পেশাল ট্রেনও চালানো হয়েছিল।
জল, আলো ও স্বাস্থ্য পরিষেবা
ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তীর্থকেন্দ্রগুলিতে ২৫টি নতুন ওয়াটার কুলার, প্রায় ৪০০টি এলইডি লাইট, বড় ওয়েটিং হল, চার্জিং পয়েন্ট এবং ‘মে আই হেল্প ইউ’ বুথ তৈরি করা হয়েছিল। বয়স্ক ও দিব্যাঙ্গ যাত্রীদের জন্য বিশেষ হুইলচেয়ারের ব্যবস্থাও রাখা হয়। মেলা চলাকালীন বিশেষ মেডিক্যাল ইউনিটের মাধ্যমে মোট ১৩,৪৯৪ জন অসুস্থ তীর্থযাত্রীকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা
যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে জসিডিতে ২৪x৭ ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার চালুর পাশাপাশি ৩৩০ জন আরপিএফ (RPF) কর্মী মোতায়েন ছিলেন। সিসিটিভি ও ডিসপ্লে বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, সমস্ত বিভাগ ও স্বেচ্ছাসেবকদের ২৪ ঘণ্টার সমন্বয়ের মাধ্যমেই প্রায় ২০ লক্ষ তীর্থযাত্রীর এই নিরাপদ ও সফল যাত্রা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।