‘অনুব্রতর মদতেই জমি দখল!’ নিজের ৪ বিঘা জমি ফিরে পেতে জেলাশাসকের দরবারে পূর্ণদাস বাউল

বীরভূমের ইলামবাজারে নিজের ৪ বিঘা জমি দীর্ঘ সময় ধরে দখল হয়ে থাকার অভিযোগে সরব বাউল সম্রাট পূর্ণদাস বাউল। মঙ্গলবার সকালে এই সমস্যা সমাধানের আর্জি নিয়ে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনের দ্বারস্থ হন বাউল শিল্পী ও তাঁর ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েও মেলেনি সুরাহা।
ঠিক কী অভিযোগ পূর্ণদাস বাউলের? ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় ১৯৭৭ সালে পূর্ণদাস বাউল রাস্তার ধারে চার বিঘা জমি কিনেছিলেন। অভিযোগ, ২০০৬ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে সুকুল টুডু নামে এক ব্যক্তি সেই জমি জবরদখল করে রাখেন। দিব্যেন্দু দাস বাউল অভিযোগের সুরে বলেন, “আগের সরকারের আমলে অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিংয়ের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া জেলায় এমন সাহস কারোর ছিল না। তাঁদের মদতেই এই জমি দখল হয়েছে।”
এর আগেও একাধিকবার ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা। তৎকালীন সময়ে জমি মাপজোকের কাজ শুরু হলেও, তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। এমনকি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুষ্ঠানে গিয়েও সরাসরি অভিযোগ জানিয়েছিলেন বাউল শিল্পী, কিন্তু মেলেনি কোনো সুরাহা।
জমি ফিরে পেলে কী করতে চান বাউল? পূর্ণদাস বাউলের কথায়, “এই জায়গাটি আমরা বাউল সংস্কৃতি এবং বাউলদের শিক্ষার প্রসারে ব্যবহার করতে চাই।” জমিটি পুনরুদ্ধার করে একটি গঠনমূলক সামাজিক কাজে ব্যবহারের স্বপ্ন দেখছেন বাউল শিল্পী। তবে দীর্ঘদিনের এই আইনি জটিলতা ও জবরদখল তাঁর সেই পরিকল্পনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিষয়ে বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, “জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ওঁরা এসেছিলেন। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” দীর্ঘদিনের এই জবরদখল কি এবার প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে মুক্ত হবে? এই প্রশ্নের দিকেই তাকিয়ে বাউল শিল্পী ও তাঁর অনুগামীরা।