বন্ধ এমার্জেন্সি এক্সিট, কাজ করেনি ফায়ার অ্যালার্ম! তারাপীঠে পুণ্যার্থী মৃত্যুমিছিলে গ্রেপ্তার হোটেল মালিক

সোমবারের এক অভিশপ্ত ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কেঁপে উঠল বীরভূমের তারাপীঠ। রামপুরহাটের ‘বিদেশিনী’ হোটেলে লাগা বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জন পুণ্যার্থীর। মর্মান্তিক এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই হোটেল মালিক ও তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।

মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের বিবরণ
সোমবার ভোরের দিকে তারাপীঠের হোটেলটিতে যখন সকলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, ঠিক তখনই হঠাৎ আগুন লেগে যায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, আগুন লাগার পর হোটেলটির ফায়ার অ্যালার্ম একবারের জন্যও কাজ করেনি। পাশাপাশি, হোটেলের জরুরি দরজা বা এমার্জেন্সি এক্সিটটিও বন্ধ ছিল। ফলে প্রাণ বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়েই পালানোর চেষ্টা করেন আবাসিকরা। কিন্তু সরু সিঁড়িতেই ধোঁয়ায় দম আটকে ও আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় একাধিক মানুষের। বহু মানুষ প্রাণে বাঁচতে হোটেলের কার্নিস বা গাছ বেয়ে লাফিয়ে নিচে নামেন।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন পুণ্যার্থীর প্রাণ গিয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছে দুটি শিশুও। নিহতদের অধিকাংশই পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলটি থানার অত্যন্ত কাছে হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এই বিপর্যয় ঘটল, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের কড়া পদক্ষেপ ও তদন্ত
এই ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার তীব্রতা বিচার করে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে। প্রথমে অনিচ্ছাকৃত খুন ও গাফিলতির অভিযোগে হোটেল মালিকের ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে খোদ হোটেল মালিককেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রামপুরহাটের এসডিপিও-র (SDPO) নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT গঠন করা হয়েছে। হোটেলটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা বা ফায়ার সেফটি ছিল কি না এবং প্রশাসনের কোনো নজরদারি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *