“ইন্ডাস্ট্রিতে কোনও নর্দমা রাখব না!” টলিউড সাফাইয়ে কড়া মিঠুন, গিল্ড নির্বাচনে বড় চমক

টলিউডের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ও জট কাটাতে এবার সরাসরি ‘মহা-শুদ্ধিকরণ’-এর পথে হাঁটল ইন্ডাস্ট্রি। মেগাস্টার মিঠুন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, ফেডারেশনের আওতাধীন ২৬টি গিল্ডের নতুন করে নির্বাচন হবে আগামী ৩১ অক্টোবর এবং ১ নভেম্বর। এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই নতুন কমিটি গঠন করে টলিউডকে এক নতুন দিশা দেখানোর রূপরেখা তৈরি হল।

মিঠুনের কড়া হুঁশিয়ারি: “নর্দমা সাফ করব” বৈঠকের মূল ফোকাসেই ছিল গিল্ডগুলির সদস্যপদ, গিল্ড কার্ড এবং নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিতর্ক। বৈঠক শেষে মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁর কড়া নজরদারি থাকবে। তাঁর ভাষায়, যতদিন নির্বাচন চলবে, ততদিন তাঁর ‘চোখ খোলা থাকবে’। টলিউডে কোনওরকম ‘নর্দমা’ তিনি বরদাস্ত করবেন না। প্রয়োজনে জোর করে সেই ‘নর্দমা’ সরিয়ে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মহাগুরু।

বাতিল হবে ভুয়ো কার্ড, আসছে নতুন নিয়ম বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল গিল্ডের কার্ড নবীকরণ। এতদিনের অভিযোগ ছিল, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন অনেক বহিরাগত ব্যক্তিও গিল্ডের সদস্যপদ পেয়েছেন। অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে জানান, এতদিন গিল্ডে যে ‘জল ঢোকানো’ হয়েছে এবং যে ‘মিথ্যে কার্ড’ বিলি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করা হবে। কড়া ঝাড়াই-বাছাইয়ের পর কেবল বৈধ সদস্যদের জন্যই নতুন কার্ড তৈরি হবে। এই কার্ড ছাড়া স্টুডিও পাড়ায় কাজের আর কোনও সুযোগ থাকবে না।

মেকআপ গিল্ডের ‘বেনামি টাকা’ বিতর্ক এদিনের বৈঠকে উঠে আসে মেকআপ গিল্ডের দীর্ঘদিনের সমস্যাও। তৎকালীন নেতৃত্ব এবং বাপি মালাকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি উঠেছিল, তা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। মেকআপ গিল্ডের সদস্যদের দাবি, মিঠুন চক্রবর্তী নির্দেশ দিয়েছেন যে সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া ‘বেনামি টাকা’ বাপি মালাকারকে ফেরত দিতে হবে, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নির্বাচনে স্বচ্ছতার দাবি বৈঠক শেষে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ম্যানেজার্স গিল্ডের সদস্যরাও। নিরুপম দে জানান, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনে যাতে কোনও রকম কারচুপি না হয়, তার জন্য একজন সরকারি আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন টলিউড সুপারস্টার তথা প্রযোজক জিৎ। তিনি জানান, গোটা বিষয়টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিঠুন চক্রবর্তী। আগামী দিনে ইমপা (EIMPA)-র নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। অন্যদিকে, রুদ্রনীল ঘোষ জানান, প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা এবং মিঠুন চক্রবর্তীর উপস্থিতিতে সর্বসম্মতভাবেই নতুন নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, টলিউডের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে পরিবর্তনের সুর। ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বরের নির্বাচনের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা ইন্ডাস্ট্রি। এই নির্বাচন কতটা স্বচ্ছ হয় এবং নতুন কমিটি টলিউডের হৃত গৌরব কতটা ফেরাতে পারে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *