বই মুখস্থের দিন শেষ? বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে বড় বদল আনতে নজিরবিহীন উদ্যোগ সরকারের

রাজ্যে পালাবদলের আবহে শিক্ষাক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে এবার বাংলায় কার্যকর হবে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০’ (NEP 2020)। আর সেই লক্ষ্যেই এবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দক্ষ করে তুলতে বিশেষ কর্মশালা শুরু করল রাজ্য।

শিক্ষকদের জন্য নতুন ‘পরখ’ কর্মসূচি: জাতীয় শিক্ষানীতির শর্ত অনুযায়ী, প্রথাগত পরীক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন প্রয়োজন। সেই পরিবর্তনের সাথে শিক্ষকদের অভ্যস্ত করতে এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি ও প্রশ্নপত্র তৈরির আধুনিক পাঠ দিতে সল্টলেকের বিদ্যাসাগর ভবনে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘পরখ’ (PARAKH)। রাজ্যের স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ এই কর্মশালার সূচনা করেন।

এনসিইআরটি (NCERT)-র অধীনে এই ‘পরখ’ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মূল লক্ষ্য হলো:

  • মুখস্থ-নির্ভর পড়াশোনা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষতা-ভিত্তিক (Skill-based) শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া।

  • শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও উপযোগী ‘প্রোগ্রেস কার্ড’ তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলা।

  • স্কুল-ভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান যাচাই করা।

অন্যদিকে উত্তপ্ত শিক্ষাঙ্গন: শিক্ষানীতির এই বড় বদলের ঘোষণার মধ্যেই রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ফের অশান্তির ছায়া। পরিচয়পত্র (Identity Card) নিয়ে বচসা ঘিরে মালদার হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজে সোমবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল।

ঠিক কী ঘটেছিল? কলেজে পরিচয়পত্র ছাড়া এক ছাত্রকে প্রবেশ করতে বাধা দেয় এভিবিপি (ABVP)-এর সদস্যরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন সাধারণ ছাত্রদের একাংশ। তাদের প্রশ্ন, কলেজ কর্তৃপক্ষের কাজ কেন রাজনৈতিক সংগঠন করবে? এই বচসা থেকেই শুরু হয় হাতাহাতি। অভিযোগ ওঠে, এভিবিপি-র সদস্যরা বাইরে থেকে বহিরাগতদের এনে ছাত্রদের মারধর করেছে। পাল্টা এভিবিপি-র দাবি, নিয়ম মেনে পরিচয়পত্র দেখার বিরোধিতা করে এসএফআই (SFI) কর্মীরা তাদের পোস্টার ছিঁড়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সুমিত কুমার ঘোষের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়।

রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে: এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, এসএফআই-এর মুখোশ পরে তৃণমূলের গুন্ডারা এই অরাজকতা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সিপিআইএমের অভিযোগ, রাজ্যে তৃণমূলের যে ‘সংস্কৃতি’, বিজেপি ঠিক সেই পথেই কলেজগুলোতে সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি আধুনিকীকরণ আর অন্যদিকে রাজনৈতিক দলাদলি—সব মিলিয়ে বাংলার শিক্ষাঙ্গন এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *