‘মুডটাই নষ্ট করে দিলে,’ হানিমুনে ঋতুস্রাব নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড স্বামীর, স্ত্রীকে অকথ্য নির্যাতন!

বিয়ের পর হানিমুনে নতুন স্ত্রীর সঙ্গে একান্ত সময় কাটানোর স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল চরম হিংস্রতায়। আন্দামান-নিকোবরের একটি হোটেলে স্ত্রীর ঋতুস্রাব হওয়াকে কেন্দ্র করে মেজাজ হারিয়ে তাঁকে মারধর এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের বাসিন্দা ওই নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ।

হানিমুনেই পৈশাচিক নির্যাতন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে দিল্লির বাসিন্দা নিখিল মিশ্রের সঙ্গে বিয়ে হয় ওই মহিলার। বিয়ের পর গত ৪ জুলাই আন্দামান-নিকোবরে হানিমুনে গিয়েছিলেন ওই নবদম্পতি। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পরই মহিলার তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয় এবং তিনি বুঝতে পারেন তাঁর ঋতুস্রাব হয়েছে। অভিযোগ, এই খবর জানতে পেরেই স্বামী নিখিল মিশ্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং স্ত্রীর ওপর চড়াও হন।

নির্যাতিতার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁকে কষিয়ে চড় মারার পাশাপাশি লাথি-ঘুঁসি মারা হয় এবং গলায় ফাঁস লাগিয়ে দমবন্ধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয়। হোটেলের ঘরে স্ত্রীর চিৎকার শুনে কর্মীরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।

পণের দাবি ও মানসিক হেনস্থা

দায়ের করা অভিযোগপত্রে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন ব্র্যান্ডেড জিনিসপত্রের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁর বাবা ২০ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি গাড়ি সহ মোট ৪০ লক্ষ টাকার পণ দিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও বিয়ের পর থেকেই পণের নানা জিনিস নিয়ে তাঁকে বারবার কটূক্তি করা হতো।

হানিমুন থেকে ফিরে এসে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা নিজের শাশুড়ি ও ননদকে জানালেও তাঁরা কোনো সহানুভূতি দেখাননি, বরং উল্টে মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এরপর নির্যাতিতার বাবা দিল্লিতে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করতে গেলে তাঁকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

পুলিশের হস্তক্ষেপে মামলা রুজু

শুরুতে স্থানীয় থানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও পুলিশের তরফ থেকে কোনো সাহায্য মেলেনি বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ। অবশেষে গোরক্ষপুরের সিনিয়র সুপারিন্টেন্ডেন্ট ড. কৌস্তুভের হস্তক্ষেপে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। বর্তমানে অভিযুক্ত স্বামী, শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *