মেডিক্যাল টেস্টে বড় জালিয়াতি ফাঁস! মহিলাদের বিভাগ থেকে পাকাপাকি নিষিদ্ধ দুই তারকা অ্যাথলিট

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের পর এবার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও জেন্ডার ভেরিফিকেশন বা লিঙ্গ পরিচয় সংক্রান্ত বিতর্কে বড়সড় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মেডিক্যাল পরীক্ষায় ‘৪৬, XY ডিফারেন্সেস অফ সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ (DSD) শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশের দুই তারকা মহিলা অ্যাথলিট—জন্নত বেগম এবং কবিতা রায়কে মহিলাদের বিভাগের সমস্ত প্রতিযোগিতা থেকে আজীবন নির্বাসিত করার কথা ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। একই সঙ্গে তাঁদের কেরিয়ারে জেতা সমস্ত পদক ও গড়া জাতীয় রেকর্ড বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের দ্বিতীয় নির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই দুই অ্যাথলিটের লিঙ্গ সংক্রান্ত বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়।

মেডিক্যাল বোর্ডের তদন্ত ও চাঞ্চল্যকর তথ্য

তদন্তের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়। দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত বছর মে মাসে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ওই বোর্ড।

ফেডারেশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জন্নত ও কবিতার শরীরে ৪৬, XY DSD, পেনোস্ক্রোটাল হাইপোস্প্যাডিয়াস এবং ইনগুইনাল ক্যানালে গোনাড থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী মহিলাদের বিভাগে ডিএসডি সংক্রান্ত যে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা (সর্বোচ্চ ২.৫ nmol/L) নির্ধারিত রয়েছে, তা এই দুই অ্যাথলিটের শরীরে বহুগুণ বেশি পাওয়া গিয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, জন্নতের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল ১৯.৬৬ nmol/L এবং কবিতার শরীরে তা ছিল ১৬.৫০ nmol/L।

পদক ও জাতীয় রেকর্ড বাতিল

এই কঠিন সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৮ বছর বয়সি অ্যাথলিট জান্নাত। তাঁর কেরিয়ারের আটটি সোনা, একটি রুপো ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রোয়ে তাঁর গড়া দুটি জাতীয় রেকর্ডও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে, ১৯ বছর বয়সি কবিতার ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪x১০০ মিটার ইভেন্টের একটি সোনা, একটি রুপো ও দুটি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলি ইমাম তপন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই দুই অ্যাথলিট আর কখনও মহিলা বিভাগে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। তবে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জুবায়ের রহমান রানা জানিয়েছেন, নিয়মানুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অ্যাথলিটরা চাইলে যথাযথ ফোরামে আপিল করতে পারেন। অন্যদিকে, বাতিল হওয়া মেডেলগুলো সংশোধিত নিয়মে সংশ্লিষ্ট ইভেন্টে পরবর্তী স্থানে থাকা অ্যাথলিটদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *