স্কুল বাদ দিয়ে সেনসাসের কাজ? শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনায় বেকায়দায় রাজ্য!

সেনসাসের কাজের জন্য শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করল আদালত। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানিতে শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি এবং কাজের চাপ নিয়ে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্ন তোলা হয়। আদালতের সাফ প্রশ্ন, দিনে ৪০ কিলোমিটার যাতায়াত করে কি আদৌ এই কাজ করা সম্ভব?

বিচারপতি রাও এ দিন রাজ্যকে প্রশ্ন করেন, শিক্ষকরা কখন স্কুল করবেন আর কখন সেনসাসের কাজে যাবেন? নিয়োগের আগে তাঁদের বায়োডাটা কেন ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়নি? শিক্ষকরা কোথা থেকে কাজে আসছেন, তা কেন বিবেচনা করা হলো না?

আদালতের পর্যবেক্ষণ, সেনসাসের এই কাজ স্কুলের ঠিক পাশেই হচ্ছে না যে শিক্ষকরা খুব সহজে সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন। স্কুল ছুটির পর অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ সেরে শিক্ষকদের বাড়ি ফিরতে অনেক রাত হবে। এর জবাবে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সেনসাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় কাজ এবং অন্যান্য রাজ্যেও এই নিয়মেই কাজ চলছে, সেখানে তো এমন বড় সমস্যা তৈরি হয় না।

পাল্টা প্রশ্ন করে বিচারপতি রাও বলেন, “আপনার বাড়ি হয়তো মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে এবং শনিবার ছুটির দিন। কিন্তু শিক্ষকরা তো শনিবারেও ক্লাস নেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাঁদের স্কুল থাকে। তাহলে সেনসাসের বাড়তি কাজের জন্য তারা সময় কোথায় পাবেন?” এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী দাবি করেন, শিক্ষকরা তো সবসময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত স্কুলেই থাকেন না, আদালত কি সেই বিষয়টি নোট করবে?

তখন বিচারপতি রাও রাজ্যকে বিকল্প ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “একসঙ্গে সব শিক্ষককে না নিয়ে যদি ৪ থেকে ৫ জন করে দায়িত্ব দেওয়া হতো, তবে বাকিরা স্কুলের কাজ সামলাতে পারতেন। কিংবা একদিন অন্তর কাজের ব্যবস্থা করা যেত। রাজ্য সদিচ্ছা থাকলে অনেক কিছু করতে পারত। অন্য কোনও উপযুক্ত ব্যবস্থা করুন, শিক্ষকরা এত দূর থেকে কাজ সেরে কখন বাড়ি ফিরবেন?”

মামলার পরবর্তী পদক্ষেপে ঠিক হয়েছে, মামলাকারীরা তাঁদের সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য—যেমন তাঁরা কোথায় থাকেন, কোথায় তাঁদের স্কুল এবং স্কুল ও যাতায়াতের নির্দিষ্ট সময়—তা সলিসিটর জেনারেলের কাছে জমা দেবেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে আগামী মঙ্গলবার আদালতকে নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাবে রাজ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *