সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে নিয়ে বড় রায় শীর্ষ আদালতের

নিয়োগ দুর্নীতি ও জমি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেেসর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। শীর্ষ আদালত তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে জানিয়েছে, আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে সুমিত রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আবেদনের শুনানি ছিল। শুনানির সময় সুমিতের আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণ আদালতকে জানান, তাঁর মক্কেল তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করে চলেছেন। গত আট দিনে তাঁকে ছয়বার তলব করা হয়েছে এবং তিনি প্রতিবারই হাজিরা দিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হয়েছেন। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পরেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সুমিতের রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়।

তদন্তের আপডেট চাইল আদালত

এদিনের শুনানিতে মামলার তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চায় শীর্ষ আদালত। তদন্তের অগ্রগতি এবং জিজ্ঞাসাবাদে কী কী নতুন তথ্য উঠে এসেছে, সেই সম্পর্কিত আপডেট রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে কিছুটা সময় চান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেওয়া হলে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী বুধবার পর্যন্ত সুমিত রায়ের রক্ষাকবচ বহাল থাকছে।

আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যে

এর আগে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন সুমিত রায়। তবে শালবনি এলাকার একটি জমি সংক্রান্ত মামলায় আগাম জামিন না পাওয়ায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন এবং শীর্ষ আদালত তাঁর গ্রেফতারিতে স্থগিতাদেশ দেয়।

উল্লেখ্য, জমি ও চাকরি সংক্রান্ত মামলা ছাড়াও সুমিতের বিরুদ্ধে আরও চারটি এফআইআর রয়েছে। ফলে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বস্তি পেলেও গ্রেফতারির আশঙ্কায় তিনি পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে জানান যে, এই মুহূর্তে মামলাটির জরুরি ভিত্তিতে শুনানির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। ফলে নিয়মমাফিক তালিকা অনুযায়ীই পরবর্তী শুনানি হবে। বুধবারের শুনানির দিকেই এখন সব মহলের নজর রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *