সাঁকরাইলে শিউরে ওঠার মতো ঘটনা! খাটালে ঘুমন্ত বৃদ্ধার মাথার খুলি উধাও, খুনের রহস্যে তোলপাড় এলাকা

সাঁকরাইলের বটতলা এলাকায় এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে এলাকার একটি ঝোপের পাশ থেকে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মৃত বৃদ্ধার নাম শান্তি মালিক। ঘটনাস্থলে দেহটির মাথার খুলির একটি বড় অংশ উধাও হয়ে যাওয়ায় খুনের নৃশংসতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাগানের ভেতরে একটি খাটালে দীর্ঘ দিন ধরে চারটি গরুর দেখাশোনা করতেন ওই বৃদ্ধা। খাটালে তিনি একাই থাকতেন। খাটাল থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরেই তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বাড়ি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিন রাতের খাবার খেতে তিনি মেয়ের বাড়ি যেতেন এবং খাওয়ার পর খাটালে ফিরে এসে একাই ঘুমোতেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে শান্তি মালিক মেয়ের বাড়ি যাননি। এরপর শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ঝোপের মধ্যে তাঁর দেহটি পড়ে থাকতে দেখেন। ঘটনাস্থলে দেহটির চারপাশ রক্তে ভেসে গিয়েছিল এবং মাথার খুলির একটি বড় অংশ না থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত খুনের ঘটনা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সাঁকরাইল থানার পুলিশ।
মৃতের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের বক্তব্য, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে তাঁকে খুন করা হলো এবং মাথার খুলি কীভাবে উধাও হলো, তা তাঁরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না। এর পেছনে কোনো দুষ্কৃতীর হাত রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রহস্য দানা বাঁধছে।
সাঁকরাইল থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যে কোনো শত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।