‘উনি দেশ স্বাধীন করেছেন, এমন প্রমাণ পাইনি,’-নেতাজিকে নিয়ে ফের ‘কুকথা’ অনন্তর

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার জেরে চরম মূল্য চোকাতে হলো রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে কড়া বার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
কী সাফাই দিলেন অনন্ত মহারাজ?

সম্মান হারানোর পরেও নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন অনন্ত মহারাজ। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছেন যে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আইন সবার জন্য সমান’ মন্তব্যকে সমর্থন জানালেও নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো আমার নিজের কথা বলিনি। যা রেকর্ডে লেখা আছে, সেটাই বলেছি। এটা বদলাতে সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’

তাঁর আরও দাবি, ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স মুভমেন্ট ইন ইস্ট এশিয়া’ বইতে শরৎচন্দ্র বসু এই বিষয়ে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি কেবল সেই অংশটুকুই কোট বা উদ্ধৃত করেছেন। অনন্ত মহারাজের প্রশ্ন, যদি তিনি দোষী হন, তবে যাঁরা ওই বই লিখেছেন বা ছাপিয়েছেন, সরকার তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিক। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি তো কাউকে গুন্ডা বলিনি। শুধু বলেছি, উনি (নেতাজি) দেশ স্বাধীন করেছেন এমন কোনো তথ্য আমি পাইনি। আমি যা বলেছি, তা ভুল হলে প্রমাণ করতে হবে।’

শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন
এর আগে বৃহস্পতিবার নবান্নের সভাঘর থেকে এক সাংবাদিক বৈঠকে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। নেতাজিকে নিয়ে কোনো ধরনের অপমানজনক মন্তব্য বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি। দল-মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে এই ধরনের ঘটনায় কড়া আইনি পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

শুভেন্দু অধিকারীর সেই হুঙ্কারের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে এই বড়সড় শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হলো। নেতাজির অবমাননা ইস্যুতে শাসক-বিরোধী তরজা এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *