“আমি হয়তো মারাই যাব!” স্টেজ ফোর ক্যানসারের সেই ভয়ঙ্কর রাতের কথা মনে করে শিউরে উঠলেন মণীষা!

সালটা ২০১২। নেপালের একটি হাসপাতালের বেডে শুয়ে তখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন অভিনেত্রী মণীষা কৈরালা। দিনের আলোয় পাওয়া একটি খবর তাঁর পায়ের তলার মাটি এক নিমেষে সরিয়ে দিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আক্রান্ত হয়েছেন মারণ রোগ ওভারিয়ান ক্যানসারে, তাও আবার একেবারে শেষ পর্যায়ে অর্থাৎ স্টেজ ফোর! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই সবচেয়ে অন্ধকার ও দীর্ঘ রাতের স্মৃতি রোমন্থন করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন অভিনেত্রী।
সেই ভয়ঙ্কর রাতের স্মৃতি
সাক্ষাৎকারে মণীষা জানিয়েছেন, হাসপাতালে শুয়ে তাঁর মনে হয়েছিল তিনি আর বাঁচবেন না। চারপাশটা যেন এক অদ্ভুত ও গভীর অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল। এই অসুখ তাঁকে জীবনের এক চরম একাকীত্বের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। তিনি জানান, একজন ক্যানসার রোগী ঠিক কতটা একা বোধ করেন, তা বাইরের মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা অসম্ভব। শুধু রোগভোগের সময় নয়, অতীতে বলিউডের জমকালো ও ভিড়ে ঠাসা পার্টিতেও তিনি বহুবার নিজেকে বড্ড একা অনুভব করেছেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই একাকীত্বকেই তিনি জীবনের একটি অঙ্গ হিসেবে মেনে নিতে শিখেছেন।
ক্যানসার কাড়ল ভিড়, দিল শান্তি
মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর মণীষার জীবনের হিসাব-নিকেশ সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তিনি পেয়েছেন বেঁচে থাকার এক দ্বিতীয় সুযোগ। আর এই প্রাপ্তির পরই জীবন থেকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত সব কিছু ছেঁটে ফেলেছেন তিনি। একসময়ে তাঁর চারপাশে বন্ধুদের বিশাল ভিড় থাকলেও, আজ তিনি বুঝেছেন যে অন্ধ ভিড়ের চেয়ে হাতে গোনা কয়েকজন আপনজন ও পরিবারের সঙ্গেই আসল শান্তি লুকিয়ে আছে। নিজের শরীরের প্রতিও এখন তিনি অত্যন্ত যত্নশীল। একসময়ের অনিয়মের জীবন ছেড়ে তিনি এখন প্রকৃতির কোলে সময় কাটাতে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে ভালোবাসেন।
কাজের ধারায় বড় বদল
ব্যক্তিগত জীবনের মতো তাঁর কর্মজীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময়ে টানা দিনে ১৮ ঘণ্টা করে কাজ করতেন মণীষা। ছুটির দিন বলে তাঁর জীবনে কিছু ছিল না। একটানা পরিশ্রম করতে করতে তিনি হাঁপিয়ে উঠেছিলেন এবং অনেক সময় ভুল চিত্রনাট্যও বেছে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ক্যানসার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সারা বিশ্বের ভক্তদের প্রার্থনা ও ভালোবাসা যখন তাঁর কাছে পৌঁছয়, তখন তিনি কাজের আসল মূল্য বুঝতে পারেন। এরপর থেকেই তিনি বেছে বেছে শুধু মানসম্মত কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন।
নিউ ইয়র্কে দীর্ঘ লড়াই ও চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে অবশেষে ক্যানসার জয় করে ফিরেছেন তিনি। ‘সঞ্জু’ কিংবা ‘লাস্ট স্টোরিজ’-এর মতো প্রজেক্টের পর সম্প্রতি সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘হীরামাণ্ডি’ সিরিজে তাঁর অনবদ্য অভিনয় প্রমাণ করে দিয়েছে যে তিনি শুধু ক্যানসারকেই হারাননি, বরং আরও শক্তিশালী হয়ে স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন বড় পর্দায়।